আমাদের  প্রিয় নবী ও  রাসূল হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজির ও নাজির কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা

আমাদের প্রিয় নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজির ও নাজির কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা

*‘হাজির-নাজির’-বিষয়ক বিশ্বাস (পর্ব-১)*

মূল: আহলুস্ সুন্নাহ-ডট-কম (পাকিস্তান)

অনুবাদ: Kazi Saifuddin Hossain

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

সালাত-সালাম জানাই নবীকুল-শিরোমণি সাইয়্যেদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর আহলে বায়ত এবং আসহাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈনের প্রতি।

আহলুস্ সুন্নাত ওয়াল-জামাআত তথা সুন্নী মুসলিম সমাজের আক্বীদা-বিশ্বাস হলো প্রিয়নবী (صلى الله عليه وسلم) হাজির ও নাজির (অর্থাৎ, তাঁর রওযা শরীফে জীবিত এবং আমাদের সমস্ত কাজ লক্ষ্য করছেন; আল্লাহতা’লা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিনি একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে রূহানীভাবে উপস্থিত হতে পারেন)।

সালাফীদের মতো প্রতিপক্ষীয় গোষ্ঠী ভ্রান্তভাবে দাবি করে যে আমাদেরকে আল্লাহতা’লার হাজির-নাজির হওয়ার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে, যদিও তা একটি মিথ্যে ছাড়া কিছু নয়। কেননা আল্লাহতা’লা স্থান-কাল-পাত্রের উর্ধ্বে; আর হাজির-নাজির স্থানের শর্তসাপেক্ষ। অধিকন্তু, প্রিয়নবী (صلى الله عليه وسلم)’এর হাজির-নাজির হওয়ার প্রতি এই আক্বীদা- বিশ্বাস রাখা শির্ক হতে পারে না, কেননা প্রথমতঃ হাজির-নাজির হওয়া আল্লাহতা’লার কোনো সিফাত/গুণ নয়। পক্ষান্তরে, দেওবন্দী/ক্বওমী ওহাবীরা ভ্রান্তভাবে বিশ্বাস করে যে আল্লাহ পাক হাজির-নাজির। অথচ এই গুণটি মাখলূক্ব তথা সৃষ্টিকুলের, খালেক্ব তথা স্রষ্টার নয়।

চলুন, আমরা ক্বুরআন মজীদ, সুন্নাহ ও চিরায়ত আলেম-উলামার বাণীসমৃদ্ধ প্রামাণিক দলিল দ্বারা সূচনা করি।

দলিল # ১:

আল্লাহতা’লা তাঁর পাক কালামে ঘোষণা করেন:

يٰأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ شَٰهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً ــ وَدَاعِياً إِلَى ٱللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجاً مُّنِيراً

অর্থ: হে অদৃশ্যের সংবাদদাতা (নবী)! নিশ্চয় আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি হাজির-নাজির করে, সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে; এবং আল্লাহর প্রতি তাঁর নির্দেশে আহ্বানকারী আর আলোকোজ্জ্বলকারী সূর্যরূপে। [আল-ক্বুরআন, ৩৩:৪৫-৪৬; নূরুল এরফান]

আল-ক্বুরআন স্পষ্টভাবে প্রিয়নবী (صلى الله عليه وسلم)’কে “শাহেদ” তথা সাক্ষী হিসেবে সম্বোধন করেছে; আর সাক্ষী স্রেফ ওই ব্যক্তি-ই হন যিনি (ঘটনাস্থলে) উপস্থিত থেকে চাক্ষুস (এবং শ্রুতি) সাক্ষ্য দেন। ক্বুরআন মজীদ তো অযৌক্তিক হতে পারে না এবং অনুপস্থিত জন, আর প্রত্যক্ষকারী নন এমন কাউকে সাক্ষী বলে সম্বোধন করতে পারে না। সালাফী ও দেওবন্দী গোষ্ঠী যদি মিথ্যে দাবি করে যে এই আয়াতটি প্রিয়নবী (صلى الله عليه وسلم)’কে কেবল তাঁর (প্রকাশ্য) জিন্দেগীর সময়কালেই ‘শাহেদ’ সম্বোধন করেছে, তাহলে আমরা অগ্রসর হয়ে আরো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করবো।

দলিল # ২:

আল-ক্বুরআনে ঘোষিত হয়েছে:

فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَىٰ هَـٰؤُلاۤءِ شَهِيداً ــ يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَعَصَوُاْ ٱلرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّىٰ بِهِمُ ٱلأَرْضُ وَلاَ يَكْتُمُونَ ٱللَّهَ حَدِيثاً

অর্থ: তবে কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো? এবং হে মাহবূব! আপনাকে তাদের সবার ওপর সাক্ষী এবং পর্যবেক্ষণকারীরূপে উপস্থিত করবো? ওই দিন কামনা করবে ওই সব লোক, যারা কুফর করেছে এবং রাসূলের অবাধ্য হয়েছে – ‘আহা! যদি তাদেরকে মাটির মধ্যে ধ্বসিয়ে মিশিয়ে ফেলা হতো!’ এবং কোনো কথাই (তারা) আল্লাহ থেকে গোপন করতে পারবে না। [আল-ক্বুরআন, ৪:৪১-৪২; নূরুল এরফান]

এখানে আল-ক্বুরআন ব্যক্ত করছে সকল (পয়গম্বরবৃন্দের) উম্মতদের মধ্য হতে সাক্ষী তলব করার কথা; অতঃপর প্রিয়নবী (صلى الله عليه وسلم)’কে তাদের ওপরে সাক্ষী হবার কথা। মহানবী (صلى الله عليه وسلم) যে হাজির ও নাজির, এই বিষয়ে ক্বুরআন মজীদে নিহিত একটা মহা-সাক্ষ্য এটা।

আপত্তি নং ১:

কিছু লোক আপত্তি উত্থাপন করে যে, উম্মতে মুহাম্মদীকেও তো ‘শাহেদ’ বলা হয়েছে; তাহলে তাঁরাও কি হাজির-নাজির হয়ে যাবেন? কিন্তু এই সাদৃশ্য তুলে ধরতে গিয়ে তারা যে ভুলটি করে তা হলো, উম্মত শাহেদ/সাক্ষী হয়েছেন তাঁদের মাঝে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)’কে প্রেরণের কারণেই। অতএব, সব কিছুই আসলে নবী করীম (صلى الله عليه وسلم)’এর সাক্ষ্যের দিকে ফিরে যায়।

আপত্তি নং ২:

কেউ কেউ আবার আপত্তি করে যে, প্রিয়নবী (صلى الله عليه وسلم) শাহাদাহ/সাক্ষ্য দেবেন ক্বুরআন মজীদের ভিত্তিতে; মানে তিনি সঠিক কী ও ভ্রান্তি কী জেনেছেন যেহেতু আল-ক্বুরআনে তা উল্লেখিত হয়েছে। সুতরাং তিনি হাজির ও নাজির নন। এই আপত্তির জবাব হলো, ক্বুরআন মজীদে অবশ্যই সমস্ত জ্ঞান নিহিত রয়েছে; অতএব, তারা যা দাবি করছে, তাতেই খোদ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)’এর হাজির ও নাজির হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হচ্ছে। কেননা আল-ক্বুরআন তাঁরই প্রতি নাযেল হয়েছে এবং তিনি ওই ঐশীগ্রন্থটির সেরা আ’রিফ তথা জ্ঞানী হিসেবে সব কিছুই জানেন। দ্বিতীয়তঃ হাজির-নাজির মানে হলো রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর রওযা পাকে (রূহানীভাবে) জীবিত, যেখান থেকে তিনি আমাদের সকল কাজ-কর্ম প্রত্যক্ষ করছেন, ঠিক যেমনটি নিম্নে আমাদের উদ্ধৃত সহীহ আহাদীসে প্রমাণিত হবে।

দলিল # ৩:

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ يَجِيءُ نُوحٌ وَأُمَّتُهُ فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى هَلْ بَلَّغْتَ فَيَقُولُ نَعَمْ، أَىْ رَبِّ‏.‏ فَيَقُولُ لأُمَّتِهِ هَلْ بَلَّغَكُمْ فَيَقُولُونَ لاَ، مَا جَاءَنَا مِنْ نَبِيٍّ‏.‏ فَيَقُولُ لِنُوحٍ مَنْ يَشْهَدُ لَكَ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم وَأُمَّتُهُ، فَنَشْهَدُ أَنَّهُ قَدْ بَلَّغَ، وَهْوَ قَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ ‏{‏وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ‏}‏ وَالْوَسَطُ الْعَدْلُ ‏”‏‏.

অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, “পয়গম্বর নূহ (আলাইহিস্ সালাম)’কে পুনরুত্থান দিবসে ডাকা হবে এবং আল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘তুমি কি ঐশীবাণী পৌঁছে দিয়েছিলে?’ তিনি উত্তর দেবেন, ‘জি, হ্যাঁ।’ তাঁর উম্মতকে তখন প্রশ্ন করা হবে, ‘তিনি (নূহ) কি তোমাদের কাছে ঐশীবাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন?’ তারা উত্তর দেবে, ‘না, কোনো সতর্ককারী আমাদের কাছে আসেননি।’ এমতাবস্থায় আল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘তোমার সাক্ষী কে?’ তিনি তখন উত্তর দেবেন, ‘হযরত মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم) ও তাঁর উম্মত।’ এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুসলমানবৃন্দ সাক্ষ্য দেবেন যে পয়গম্বর নূহ (আলাইহিস্ সালাম) ঐশীবাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন। আর এ-ই হলো আল্লাহতা’লার বাণী – ‏وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ‏ – ‘এবং কথা এই যে, আমি তোমাদেরকে সব উম্মতের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি (উম্মাতান ওয়াসাতান বা মর্যাদাবান জাতি হিসেবে) যাতে তোমরা মানবজাতির ব্যাপারে সাক্ষী হও [আল-ক্বুরআন, ২:১৪৩]।’ আল-ওয়াসাত-এর মানে আল-আদল তথা ন্যায়বান। [সহীহ বুখারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, বই নং ৬০, হাদীস নং ১৪]

মোল্লা আলী ক্বারী (রহমতুল্লাহে আলাইহে) এই পয়গম্বর নূহ (আলাইহিস্ সালাম)-সম্পর্কিত হাদীসটি, যা’তে তাঁর পক্ষে সাক্ষী তলবের বর্ণনা বিদ্যমান, তা ব্যাখ্যাকালে বলেন:

فيقول محمد وأمته والمعنى أن أمته شهداء وهو مزك لهم وقدم في الذكر للتعظيم ولا يبعد أنه يشهد لنوح عليه الصلاة والسلام أيضا لأنه محل النصرة وقد قال تعالى وإذا أخذ الله ميثاق النبيين إلى قوله لتؤمنن به ولتنصرنه آل عمران فقال رسول الله فيجاء بكم وفيه تنبيه نبيه أنه حاضر ناظر في ذلك العرض الأكبر فيؤتى بالرسل وأولهم نوح ويؤتى بشهوده وهم هذه الأمة

অর্থ: [আর পয়গম্বর নূহ (আলাইহিস্ সালাম) উত্তর দেবেন, ‘মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم) ও তাঁর উম্মত’] এটা ব্যক্ত করে যে, তাঁর উম্মত সাক্ষী, আর তিনি তাঁদের (সত্যবাদিতার) ব্যাপারে সাক্ষী; তবে তাঁর নাম মোবারক প্রথমে উচ্চারিত হওয়াটা সম্মানার্থে ( للتعظيم)। এটা অসম্ভব (لا يبعد) নয় যে তিনি নিজেও পয়গম্বর নূহ (আলাইহিস্ সালাম)’এর পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন, কেননা এর পরিপ্রেক্ষিত হচ্ছে সাহায্য করার, আর আল্লাহ পয়গম্বরবৃন্দের (আলাইহিমুস্ সালাম) কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন – لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ – ‘তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে)।’ এই বিষয়ে লক্ষ্য করার মতো হুঁশিয়ারি আছে এ মর্মে যে, যখন আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামবৃন্দকে ও তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথমে পয়গম্বর নূহ (আলাইহিস্ সালাম)’কে ডাকা হবে এবং তাঁদের পক্ষে সাক্ষী হিসেবে এই উম্মতে (মুহাম্মদী)’কে পেশ করা হবে, তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ওই চূড়ান্ত বিচারালয়ে উপস্থিত থাকবেন আর সাক্ষ্য দেবেন – وفيه تنبيه نبيه أنه حاضر ناظر في ذلك العرض الأكبر – [মিরক্বাত আল-মাফাতিহ শরহে আল-মিশক্বাত আল-মাসাবিহ, ১০ খণ্ড, ২১০ পৃষ্ঠা, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ কর্তৃক প্রকাশিত]

মোল্লা আলী ক্বারী (রহমতুল্লাহে আলাইহে) আরো ব্যাখ্যা করেন নিম্নবর্ণিত হাদীসটি: (গৃহে যখন কেউ উপস্থিত না থাকেন, তখন বলা উচিৎ – اَلسَّلَامُ عَلَي النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللهِ – মোল্লা আলী ক্বারী (রহ:) এ প্রসঙ্গে বলেন:

اَيْ لِأَنَّ رُوْحَهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَاضِرٌ فِيْ بُيُوْتِ الْمُسْلِمِينَ.

অর্থ: মানে হলো, তাঁর (মহানবী صلى الله عليه وسلم) রূহ মোবারক (পবিত্র আত্মা) সকল মুসলমানের ঘরে উপস্থিত থাকার কারণে (সালাম দেয়া জরুরি)। [শরহে শেফা, ২:১১৭]

দলিল # ৪:

حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ، وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ، وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولاَنِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم‏.‏ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ‏.‏ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ، قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ، فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا ‏”‏‏.‏

অর্থ: হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন: “আল্লাহর বান্দাকে যখন তার সমাধিতে শায়িত করা হয় এবং তার সাথীরা ফিরে যেতে থাকে, তখন সে এমন কী তাদের পায়ের শব্দও শুনতে পায়। দু জন ফেরেশতা তার কাছে আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান; অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করেন – مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي الرَّجُلِ – ‘তুমি এই ব্যক্তি (রাসূল صلى الله عليه وسلم) সম্পর্কে কী বলতে?’ ঈমানদার বান্দা তখন উত্তর দেবেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর হাবীব ও রাসূল।’ এমতাবস্থায় ফেরেশতা দু জন তাকে বলবেন, ‘দেখো, জাহান্নামে তোমার স্থান; আল্লাহ তা পরিবর্তন করে তোমাকে জান্নাতে একটি স্থান মঞ্জুর করেছেন।’ অতঃপর সে দুটো স্থান-ই দর্শন করবে….।” [সহীহ বুখারী, ২য় খণ্ড, বই নং ২৩, হাদীস নং ৪৫৬]

ইমাম ক্বসতলানী (রহমতুল্লাহে আলাইহে) এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, “এটা বেসালপ্রাপ্ত জনের কাশফ (দিব্যদৃষ্টি) এ পর্যায়ে যে, তিনি প্রিয়নবী (صلى الله عليه وسلم)’কে দেখতে পান আর এটা মুসলমানদের জন্যে (আশীর্বাদপূর্ণ) সুখবর।” [ইরশাদ আল-সারী শরহে সহীহ আল-বুখারী, ৩য় খণ্ড, ৩৯০ পৃষ্ঠা]

এই হাদীসটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, প্রিয়নবী (صلى الله عليه وسلم) একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে হাজির/উপস্থিত হতে পারেন; কেননা দুনিয়াতে একই সময়ে অনেক মানুষ ইন্তেক্বাল করেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের সবার সমাধিতে হাজির হন।

Leave a Reply

Close Menu