উসীলা গ্রহণ শরীয়তের দলিল দ্বারা প্রমাণিত

উসীলা গ্রহণ শরীয়তের দলিল দ্বারা প্রমাণিত

উসীলা মৌলিকভাবে দুই প্রকার।
১-কোন নেক আমলের উসীলা গ্রহণ।

২-কোন ব্যক্তিত্বের উসীলা গ্রহণ।
حدثنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، حدثني سالم بن عبد الله، أن عبد الله بن عمر ـ رضى الله عنهما ـ قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏”‏ انطلق ثلاثة رهط ممن كان قبلكم حتى أووا المبيت إلى غار فدخلوه، فانحدرت صخرة من الجبل فسدت عليهم الغار فقالوا إنه لا ينجيكم من هذه الصخرة إلا أن تدعوا الله بصالح أعمالكم‏.‏ فقال رجل منهم اللهم كان لي أبوان شيخان كبيران، وكنت لا أغبق قبلهما أهلا ولا مالا، فنأى بي في طلب شىء يوما، فلم أرح عليهما حتى ناما، فحلبت لهما غبوقهما فوجدتهما نائمين وكرهت أن أغبق قبلهما أهلا أو مالا، فلبثت والقدح على يدى أنتظر استيقاظهما حتى برق الفجر، فاستيقظا فشربا غبوقهما، اللهم إن كنت فعلت ذلك ابتغاء وجهك ففرج عنا ما نحن فيه من هذه الصخرة، فانفرجت شيئا لا يستطيعون الخروج ‏”‏‏.‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏”‏ وقال الآخر اللهم كانت لي بنت عم كانت أحب الناس إلى، فأردتها عن نفسها، فامتنعت مني حتى ألمت بها سنة من السنين، فجاءتني فأعطيتها عشرين ومائة دينار على أن تخلي بيني وبين نفسها، ففعلت حتى إذا قدرت عليها قالت لا أحل لك أن تفض الخاتم إلا بحقه‏.‏ فتحرجت من الوقوع عليها، فانصرفت عنها وهى أحب الناس إلى وتركت الذهب الذي أعطيتها، اللهم إن كنت فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا ما نحن فيه‏.‏ فانفرجت الصخرة، غير أنهم لا يستطيعون الخروج منها‏.‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم وقال الثالث اللهم إني استأجرت أجراء فأعطيتهم أجرهم، غير رجل واحد ترك الذي له وذهب فثمرت أجره حتى كثرت منه الأموال، فجاءني بعد حين فقال يا عبد الله أد إلى أجري‏.‏ فقلت له كل ما ترى من أجرك من الإبل والبقر والغنم والرقيق‏.‏ فقال يا عبد الله لا تستهزئ بي‏.‏ فقلت إني لا أستهزئ بك‏.‏ فأخذه كله فاستاقه فلم يترك منه شيئا، اللهم فإن كنت فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا ما نحن فيه‏.‏ فانفرجت الصخرة فخرجوا يمشون ‏”‏‏.‏

‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, আমি আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে তিন ব্যক্তি সফরে বের হয়ে তারা রাত কাটাবার জন্য একটি গুহায় আশ্রয় নেয়। হঠাৎ পাহাড় হতে এক খণ্ড পাথর পড়ে গুহায় মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তখন তারা নিজেদের মধ্যে বলতে লাগল তোমাদের সৎকার্যাবলীর ওসীলা নিয়ে আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করা ছাড়া আর কোন কিছুই এ পাথর হতে তোমাদেরকে মুক্ত করতে পারে না। তখন তাদের মধ্যে একজন বলতে লাগল, হে আল্লাহ্‌! আমার পিতা-মাতা খুব বৃদ্ধ ছিলেন। আমি কখনো তাদের আগে আমার পরিবার পরিজনকে কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করাতাম না। একদিন কোন একটি জিনিসের তালাশে আমাকে অনেক দূরে চলে যেতে হয়; কাজেই আমি তাঁদের ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বে ফিরতে পারলাম না। আমি তাঁদের জন্য দুধ দোহায়ে নিয়ে এলাম। কিন্তু তাঁদেরকে ঘুমন্ত পেলাম। তাদের আগে আমার পরিবার-পরিজন ও দাস-দাসীকে দুধ পান করতে দেয়াটাও আমি পছন্দ করিনি। তাই আমি তাঁদের জেগে উঠার অপেক্ষায় পেয়ালাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এভাবে ভোরের আলো ফুটে উঠল। তারপর তাঁরা জাগলেন এবং দুধ পান করলেন। হে আল্লাহ্‌! যদি আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এ কাজ করে থাকি, তবে এ পাথরের কারনে আমরা যে বিপদে পড়েছি, তা আমাদের হতে দূর করে দাও। ফলে পাথর সামান্য সরে গেল, কিন্তু তাতে তারা বের হতে পারল না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্‌! আমার এক চাচতো বোন ছিল। সে আমার খুব প্রিয় ছিল। আমি তার সঙ্গে সঙ্গত হতে চাইলাম। কিন্তু সে বাধা দিল। তারপর এক বছর ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সে আমার কাছে (সাহায্যের জন্য) এল। আমি তাকে একশ’ বিশ দীনার এ শর্তে দিলাম যে, সে আমার সাথে একান্তে মিলিত হবে, তাতে সে রাযী হল। আমি যখন সম্পূর্ণ সুযোগ লাভ করলাম, তখন সে বলল, আমি তোমাকে অবৈধভাবে মোহর ভাঙার অনুমতি দিতে পারি না। ফলে সে আমার সর্বাধিক প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি তার সাথে সঙ্গত হওয়া পাপ মনে করে তার কাছ হতে ফিরে আসলাম এবং তাকে যে স্বর্ণমুদ্রা দিয়েছিলাম, তাও ছেড়ে দিলাম। হে আল্লাহ্‌! আমি যদি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করে থাকি, তবে আমরা যে বিপদে পড়ে আছি তা দূর কর। তখন সেই পাথরটি (আরও একটু) সরে পড়ল। কিন্তু তাতে তারা বের হতে পারছিল না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তারপর তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্‌! আমি কয়েকজন মজদুর নিয়োগ করেছিলাম এবং তাদেরকে তাদের মজুরীও দিয়েছিলাম, কিন্তু একজন লোক তার প্রাপ্য না নিয়ে চলে গেল। আমি তার মজুরীর টাকা খাটিয়ে তা বাড়াতে লাগলাম। তাতে প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জিত হল। কিন্তু কিছুকাল পর সে আমার নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দা! আমাকে আমার মজুরী দিয়ে দাও। আমি তাকে বললাম, এসব উট, গরু, ছাগল ও গোলাম যা তুমি দেখতে পাচ্ছ, তা সবই তোমার মজুরী। সে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দা! তুমি আমার সাথে বিদ্রুপ করো না। তখন আমি বললাম, আমি তোমার সাথে মোটেই বিদ্রুপ করছি না। তখন সে সবই গ্রহণ করল এবং নিয়ে চলে গেল। তা হতে একটাও ছেড়ে গেল না। হে আল্লাহ্‌! আমি যদি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য এ কাজ করে থাকি, তবে আমরা যে বিপদে পড়েছি, তা দূর কর। তখন সে পাথরটি সম্পূর্ণ সরে পড়ল। তারপর তারা বেরিয়ে এসে পথ চলতে লাগল।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২২৭২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

প্রথম প্রকার ওসীলা তথা নেক আমলের ওসীলা জায়েজ এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা সর্বসম্মত মতানুসারে জায়েজ।
যা বনী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি পাহাড়ের গুহায় আটকে যাবার পর স্বীয় আমলের উসীলা দিয়ে দুআ করার দ্বারা সুষ্পষ্টরূপে প্রমাণিত।
হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং আওলিয়ায়ে কেরাম এবং বুজুর্গানে দ্বীনের উসীলা দিয়ে দুআ করা ইসলামী শরীয়ত মোতাবিক জায়েজ।
বরং দুআ কবুলের সহায়ক হওয়ার দরূন তা প্রশংসনীয় ও উত্তমও।কুরআনে কারীমের আয়াত, হাদীসের বর্ণনা এবং জমহুর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর বক্তব্য দ্বারা একথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত।
এজন্য শর্ত হল উসীলাকে মুআসসিরে হাকীকী তথা মূল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী মনে করা যাবে না। এমনও মনে করা যাবে না যে, ওসীলা গ্রহণ ছাড়া দুআ কবুলই হবে না। এমন করা সুষ্পষ্ট গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতা।
সেই সাথে উসীলা গ্রহণের উদ্দেশ্য এটাও নয় যে, আম্বিয়াগণ বা আওলিয়াগণ এর কাছে স্বীয় প্রয়োজন পূরণ করতে প্রার্থনা করা হবে।
তাদের কাছে প্রয়োজন পূর্ণ করার ফরিয়াদ করা হবে। এটা শিরকী আক্বিদা ও পদ্ধতি এতে কোন সন্দেহ নেই। যেমনটি কতিপয় মুর্খ জাহেলরা করে থাকে।

যে ব্যক্তি দুনিয়াতে নেই তার ওসীলা দিয়ে দুআ করাজায়েজের দলীল:

وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِن قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا ﴿البقرة: ٨٩
﴾যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছেরয়েছে এবং যা দিয়ে তারা ইতোপূর্বে কাফেরদের উপর বিজয় কামনা করতো।
{সূরা বাকারা-৮৯}
বাগদাদের মুফতী আল্লামা সাইয়্যেদ মাহমুদ আলুসী রহঃ বলেনঃ-

نزلت في بني قريظة والنضير كانوا يستفتحون على الأوس والخزرج برسول الله صلى الله عليه وسلم قبل مبعثه قاله ابن عباس رضي الله تعالى عنهما وقتادة والمعنى يطلبون من الله تعالى أن ينصرهم به على المشركين ، كما روى السدي أنهم كانوا إذا اشتد الحرب بينهم وبين المشركين أخرجوا التوراة ووضعوا أيديهم علىموضع ذكر النبي صلى الله عليه وسلم وقالوا : اللهم إنا نسألك بحق نبيك الذي وعدتنا أن تبعثه في آخر الزمان أن تنصرنا اليوم على عدوّنا فينصرون

এ আয়াত নাজীল হয়েছে বনী কুরাইজা ও বনী নজীরের ব্যাপারে। রাসূল সাঃ এর আগমণের পূর্বে যারা আওস ও খাজরাজের বিরুদ্ধে রাসূল সাঃ এর ওসীলা দিয়ে দুআ করতো। এ বক্তব্যটি ইবনে আব্বাস রাঃ এবং কাতাদা এর।আল্লাহ তাআলার কাছে চাওয়ার মানে হল, তারা এর দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতো। যেমন সিদ্দী বর্ণনা করেন যে, যখন তাদের ও মুশরিকদের মাঝে ভয়াবহ যুদ্ধ লেগে যেত, তখন তারা তাওরাত কিতাব বের করত, এবং তাদের হাত যেখানে রাসূল সাঃ এর নাম আছে তার উপর রাখতো, আর বলতো-“হে আল্লাহ! আমরা আজকে আপনার সাহায্য কামনা করছি আমাদের শত্র“দের বিরুদ্ধে ঐসত্য নবীর ওসীলায় শেষ জমানায় যার আগমনের ওয়াদা আপনি করেছেন। তারপর তাদের সাহায্য করা হতো।
{তাফসীরে রুহুল মাআনী-১/৩২০}
আল্লামা মহল্লী রহঃ উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ-
রাসূল সাঃ এর আগমনের পূর্বে ইহুদীরা কাফেরদের বিরুদ্ধে
আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য পার্থনা করে বলতো-
اللهم انصرنا عليهم باالنبى المبعوث آخر الزمان
তথা হে আল্লাহ! শেষ জমানায় আগমনকারী নবীর ওসীলায় আমাদের সাহায্য করুন।
{তাফসীরে জালালাইন-১/১২}
একই তাফসীর নিম্ন বর্ণিত তাফসীর গ্রন্থে বর্ণিত।
যেমন-
১- তাফসীরে কাবীর-৩/১৮০।
২- তাফসীরে ইবনে জারীর তাবারী-১/৪৫৫।।
৩- তাফসীরে বগবী-১/৫৮।
৪- তাফসীরে কুরতুবী-২/২৭।
৫- তাফসীরে আলবাহরুল মুহীত-১/৩০৩।
৬- তাফসীরে ইবনে কাসীর-১/১২৪।
৭- তাফসীরে আবীস সউদ-১/১২৮।
৮- তাফসীরে মাজহারী-১/৯৪।
৯- তাফসীরে রূহুল মাআনী-১/৩১৯।
১০- তাফসীরে ইবনে আব্বাস রাঃ-১৩।
১১- তাফসীরে খাজেন-১/৬৪।
১২- তাফসীরে মাদারেক-১/৩২।
১৩- তাফসীরে দুররে মানসূর-১/৮৮।
১৪- তাফসীরে তাবসীরুর রহমান আরবী-১/৫২।
১৫- সফওয়াতুত তাফাসীর-১/৭৭।
১৬- তাফসীরে আজীজী-৩২৯।
১৭- তাফসীরে মাওজাউল কুরআন-১৫।
১৮- তাফসীরে মাআরেফুর কুরআন [মাওলানা মুহাম্মদ ইদ্রিস কান্ধলবী রহঃ]- ১/১৭৭।
১৯- তাফসীরে জাওয়াহেরুল কুরআন- ৪৯।
২০- বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ লিইবনে কায়্যিম হাম্বলী-৪/১৪৫।
২১- আলমিনহাতুল ওহাবিয়া লিআল্লামা দাউদ বিন সুলাইমান আলবাগদাদী হানাফী রহঃ-৩১।
উসুলে ফিক্বহ এ লিখা আছে যে,
আল্লাহ তাআলা ও জনাবে রাসূল সাঃ যদি পর্ববর্তীদের শরীয়ত সমালোচনা বা নিষেধ করা ছাড়া বর্ণনা করে থাকেন, তাহলে সেটি আমাদের উপরও লাযেম হয়ে যায়।
________________
রেফারেন্সঃ-
{নূরুল আনওয়ার-২১৬, তাসকীনুল কুলুব-৭৬, নেদায়ে হক্ব-১০১}
أن رجلا كان يختلف إلى عثمان بن عفان رضيالله عنه في حاجة له فكان عثمان لا يلتفتإليه ولا ينظر في حاجته فلقي عثمان بن حنيف فشكا ذلك إليه فقال له عثمان بن حنيف ائت الميضأة فتوضأ ثم ائت المسجدفصلي فيه ركعتين ثم قل اللهم إني أسألكوأتوجه إليك بنبينا محمد صلى الله عليه وسلم نبي الرحمة

এক ব্যক্তি হযরত উসমান বিন আফফান রাঃ এর কাছে একটি জরুরী কাজে আসা যাওয়া করত। হযরত উসমান রাঃ]ব্যস্ততার কারণে[ না তার দিকে তাকাতেন, না তার প্রয়োজন পূর্ণ করতেন।
সে লোক হযরত উসমান বিন হানীফ রাঃ এর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করল। তখন তিনি বললেনঃ তুমি ওজু করার স্থানে গিয়ে ওজু কর।
তারপর মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামায পড়। তারপর বল, হে আল্লাহ! তোমার কাছে প্রার্থনা করছি।
রহমাতের নবী মুহাম্মদ সাঃ এর ওসীলায় তোমার দিকে মনোনিবেশ করছি।
_______________
রেফারেন্সঃ-
{আল মুজামে সগীর, হাদীস নং-৫০৮, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৮৩১১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং-১০১৮}

এ হাদীসের শেষে স্পষ্ট রয়েছে যে, লোকটি তা’ই করেছিল। তার দুই কবুলও হয়েছিল। ফলে হযরত উসমান রাঃ তাকে সম্মান দেখিয়ে তার প্রয়োজনও পূর্ণ করে দিয়েছিলেন।
# উক্ত হাদীসটির ক্ষেত্রে ইমাম তাবরানী বলেনঃ والحديث صحيح
তথা এ হাদীসটি সহীহ।
রেফারেন্সঃ-
{আল মুজামে সগীর-১০৪}
# আল্লামা মুনজিরী রহঃ ও একথার পক্ষাবলম্বন করেছেন।
রেফারেন্সঃ-
{আত তারগীব ওয়াত তারহীব-১/২৪২}
# আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী রহঃ বলেনঃ رواه التبرانى بسند جيد
তথা তাবারানী রহঃ এটাকে উত্তম সনদে তা বর্ণনা করেছেন।
রেফারেন্সঃ-
{হাশীয়ায়ে ইবনে হাজার মক্কী আলাল ঈজাহ ফি মানাসিকিল হজ্ব লিননববী-৫০০, মিশর}
আশরাফ আলী থানবী
উক্ত হাদীস বর্ণনার পর লিখেনঃএর দ্বারা মৃত্যুর পর ওসীলা গ্রহণ করার বিষয়টিও প্রমাণিত।
এছাড়া রেওয়ায়েত তথা বর্ণনার সাথে সাথে দিরায়াত তথা যৌক্তিকতার নিরিখেও তা প্রমাণিত।
কেননা, প্রথম বর্ণনা দ্বারা যে ওসীলা প্রমাণিত তা উভয় অবস্থাকেই শামীল করে থাকে।
রেফারেন্সঃ-
{নশরুত তীব-২৫৩}

একই বক্তব্য দেখুন-
{শিফাহুস সিক্বাম লিস সুবকী-১২৫, ওয়াফাউল ওয়াফা লিস সামহুদী-২/৪২০}
নিম্ন বর্ণিত ওলামায়ে কেরামও এ ওসীলাকে জায়েজ সাব্যস্ত করেছেন।
যথা-
১- আল্লামা সাইয়্যেদ সামহুদী- ওয়াফাউল ওয়াফা-২/৪২২।
২- আল্লামা তাজুদ্দীন সুবকী রহঃ- শিফাউস সিক্বাম-১২০।
৩- আল্লামা আলুসী হানাফী রহঃ- রূহুল মাআনী-৬/১২৮।
৪- শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহঃ- হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা।
৫- শাহ মুহাম্মদ ইসহাক মুহাদ্দেসে দেহলবী- মিআতু মাসাঈল-৩৫।
৬- শাহ মুহাম্মদ ইসমাঈল শহীদ- তাক্ববিয়াতুল ঈমান-৯৫।
৭- মাওলানা আব্দুল হাই লাক্ষ্নৌবী- মাজমুআ ফাতাওয়া-৩/২৩।
৮- মাওলানা হুসাইন আলী সাহেব- বিলুগাতিল হিয়ার-১/৩৫৪।
৯- মুফতী আজীজুর রহমান, ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ-৫/৪৩১, ৪২৩, ৪২৪, ৪৪১।
১০- মাওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গুহী- ফাতাওয়া রশীদিয়া-১/৭৮।
১১- মাওলানা মুফতী শফী
– মাআরেফুল কুরআন-১/৪২, ৪৪।
রাসূল সাঃ এর ওসীলা দেয়া যেমন জায়েজ, তেমনি বুজুর্গদের ওসীলা দেয়া ও জায়েজ আছে।
দেখুন-
১- ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আলআবদারী আলমালেকী [ইবনুল হজ্ব]- মাদখাল-১/২৫৫}
২- আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী রহঃ- হাশীয়ায়ে ইবনেহাজার মক্কী আলালইজাহ ফী মানাসিকিল হজ্ব লিননাবাবী-৫০০।
৩- আল্লামা আলুসী রহঃ- রূহুল মাআনী-৬/১২৮।
৪- আশরাফ আলী থানবী – নশরুত ত্বীব-৩০২-৩০৩।
৫- মুহাদ্দিসে কাবীর আল্লামা যফর আহমাদ উসমানী- ইমদাদুল আহকাম-১/৪১।
৬- মাওলানা মুফতী মাহমুদ হাসান গঙ্গুহী- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া-৫/১৩৬-১৩৭}
৭- মাওলানা খায়ের মুহাম্মদ জালান্ধরী- খাইরুল ফাতাওয়া-১/১৯৮।

Leave a Reply