একজন মুসলমানের জন্য কোন কোন বিষয়ে ঈমান রাখতে হবে ?

একজন মুসলমানের জন্য কোন কোন বিষয়ে ঈমান রাখতে হবে ?

একজন মুসলমানের জন্য কোন কোন বিষয়ে ঈমান রাখতে হবে ?

একজন মুসলমানের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি ঈমান রাখতে হবে।

(০১) “আল্লাহ”- এর উপর ঈমান রাখতে হবে।

আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান বলতে মৌলিক ভাবে তিনটি বিষয় বিশ্বাস করা ও মেনে নেয়াকে বুঝায়। আল্লাহর সত্তা ও তাঁর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা।
আল্রাহর ছিফাত অর্থাৎ তাঁর গুণাবলীতে বিশ্বাস করা।
তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা। অর্থাৎ- বিশ্বাস করা যে অল্লাহর সত্তা এক ও অদ্বিতীয়, তেমনি তাঁর গুণাবলীতেও কেউ শরীক নাই এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে হবে। ইবাদতে তার সাথে কাউকে শরীক করা যাবেনা।
(০২) ফেরেশতা সম্বেন্ধে ঈমান ঃ

ফেরেশতা সম্বন্ধে এই বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহ এক প্রকার নূরের মাখলূক সৃষ্টি করেছেন, যারা পুরুষও নয় নারীও নয়। যারা কাম, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি রিপু থেকে মুক্ত। যারা নিষ্পাপ। আল্লাহর আদেশের বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম তারা করে না। তারা বিভিন্ন আকার ধারণ করতে পারে। তারা সংখ্যায় অনেক। আল্লাহ তাদেরকে বিপুল শক্তির অধিকারী বানিয়েছেন। আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করে বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন। কতিপয় আযাবের কাজে, কতিপয় রহমতের কাজে নিযুক্ত আছে। কতিপয় আমলনামা লেখার কাজে নিযুক্তআছে। তাদের কে “কিরামান কাতিবীন” বলা হয়। এমনিভাবে সৃষ্টির বিভিন্ন কাজে ফেরেশতাদের কে আল্লাহ নিয়োজিত করে রেখেছেন।

(০৩) নবী ও রাসূল সম্বন্ধে ঈমান ঃ

নবী ও রাসূলদের প্রতি ঈমান রাখার অর্থ হল প্রধানত নিম্নোক্ত বিষয়াবলীতে বিশ্বাস রাখা। নবীগণ নিষ্পাপ। তাঁদের দ্বারা কোন পাপ সংঘটিত হয় না।
নবীগণ মানুষ, আল্লাহর প্রতিনিধি ও নায়েব। তাঁরা খোদা নন বা খোদার পুত্র নন বা খোদার রূপান্তর নন। আল্লাহর বাণী অনুসারে জিন ও মানুষ জাতিকে হেদায়েতের জন্য তাঁরা দুনিয়াতে প্রেরিত হন।
নবীগণ আল্লাহর বাণী হুবহু পৌঁছে দিয়েছেন।
নবীদের ধারাবাহিকতা আদম আ. থেকে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর উপর শেষ হয়েছে।
আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং তিনি খাতামুন্নাবী অর্থাৎ, তাঁর পর আর কোন নবী আসবে না। অন্য কেউ নবী হওয়ার দাবী করলে সে ভন্ড এবং কাফের।
নবীগণ কবরে জীবিত।
সকল নবী হক ও সত্য পয়গম্বর ছিলেন। সকলের প্রতিই ঈমান রাখতে হবে। হবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর আগমনের পর অন্য নবীর শরী’য়াত রহিত হয়ে গিয়েছে, এখন শুধু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর শরীয়াত ও তাঁর আনুগত্যই চলবে।
নবীদের দ্বারা তাঁদের সত্যতা প্রমাণিত করার জন্য অনেক সময় অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। এসব অলৌকিক ঘঁনাকে মু’জিযা বলে। মু’জিযায় বিশ্বাস করাও ঈমানের অঙ্গীভূত।
(০৪) আল্লাহর কিতাব সম্বন্ধে ঈমান ঃ

এক বর্ণনা মতে মহান আল্লাহ তায়ালা সর্বমোট ১০৪ খানা কিতাব প্রেরণ করা হয়। তন্মধ্যে চারখানা হল বড় কিতাব। যথাঃ

তাওরাতঃ যা হযরত মূসা আ. এর উপর নাযেল হয়।
যবূরঃ যা হযরত দাউদ আ. এর উপর নাযেল হয়।
ইঞ্জীলঃ যা হযরত ঈসা আ. এর উপর নাযেল হয়।
কুরআনঃ যা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর উপর অবর্তীর্ণ হয়েছে।
আসমানী কিতাব সম্বন্ধে ঈমান রাখার অর্থ হল প্রধানতঃ

নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিশ্বাস করা ঃ

এ সমস্ত কিতাব আল্লাহর বাণী, মানব রচিত নয়।
আল্লাহ যেমন অবিনশ্বর ও চিরন্তন, তাঁর বাণীও তদ্রূপ অবিনশ্বর ও চিরন্তর। কুরআন নশ্বর বা সৃষ্ট নয়।
আসমানী কিতাব সমূহের মধ্যে কুরআন সর্ব শ্রেষ্ঠ।
কুরআন শরীফ সর্বশেষ কিতাব, এরপর আর কোন কিতাব নাযেল হবে না। কিয়ামত পর্যন্ত কুরআন শরীফের বিধানই চলবে। এর মাধ্যমে অন্যান্য আসমানী কিতাবের বিধান রহিত হয়ে গিয়েছে। আর কুরআন শরীফের হিফাজতের জন্য আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করেছেন। তাই কেউ এর পরিবর্তন করতে পারবে না।
(০৫) আখেরাত সম্বন্ধে ঈমানঃ

এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।

কবরের সওয়াল জওয়াব সত্য।
কবরের আযাব সত্য।
পুনরুত্থান ও হাশর ময়দানের অনুষ্ঠান সত্য।
আল্লাহ্র বিচার ও হিসাব নিকাশ সত্য।
নেকী ও বদীর ওজন সত্য।
রআমল নামার প্রাপ্তি সত্য।
হাউজে কাউসার সত্য।
পুলসিরাত সত্য।
শাফাআত সত্য।
জান্নাত বা বেহেশত সত্য।
জাহান্নাম বা দোযখ সত্য।
(০৬) তাকদীর সম্বন্ধে ঈমানঃ

তাকদীর সম্বন্ধে ঈমান রাখার অর্থ হল নিম্নোক্ত বিষয়াবলীতে বিশ্বাস রাখাঃ

সবকিছু সৃষ্টি করার পূর্বেই আল্লাহ তায়ালা সবকিছু লেখে রেখেছেন।
সবকিছু ঘাঁর পূর্বেই আল্লাহ তায়ালা আনাদি-জ্ঞানে সেসব কিছু সম্বন্ধে অবহিত এবং তাঁর জানা ও ইচ্ছা অনুসারেই সবকিছু সংঘটিত হয়।
তিনি ভাল ও মন্দ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। তবে মন্দ সৃষ্টির জন্য তিনি দোষী নন বরং যে মাখলুক মন্দ উপার্জন করবে সে দোষী। কেননা মন্দ মন্দ সৃষ্টি মন্দ নয়, বরং মন্দ উপার্যন হল মন্দ।
আল্লাহ তায়ালা কলম দ্বারা লওহে মাহফুজে তাকদীরের সবকিছু লিখে রেখেছেন। তাই লওহ, কলম ও লওহে যা কিছু লিখে রাখা হয়েছে সব কিছুতে বিশ্বাস রাখা তাকদীরে বিশ্বাসের অন্তভূক্ত।
মানুষ একদিকে নিজেকে অক্ষম ভেবে নিজেকে দায়িত্বহীন মনে করবে না এই বলে যে, আমার কিছুই করার নেই; তাদীরে যা আছে তাই তো হবে। আবার তাকদীরকে এড়িয়ে মানুষ খোদার পরিকল্পনার বাইরেও কিছু করে ফেলতে সক্ষম এমনও নয়।
মানুষের প্রতি আল্লাহর যত হুকুম ও আদেশ নিষেধ রয়েছে, তার কোনটি মানুষের সাধ্যের বাইরে নয়। কোনো অসাধ্য বিষয়ে আল্লাহ কোন হুকুম ও বিধান দেননি।
আল্লাহ তায়ালার উপর কোন কিছু ওয়াজিব নয়, তিনি কাউকে কিছু দিতে বাধ্য নন। তাঁর উপর কারও কোন হুকুম চলে না। যা কিছু তিনি দান করেন সব তাঁর রহমত ও মেহেরবানী মাত্র।
সূত্র- আহকামে জিন্দেগী।

Leave a Reply

Close Menu