কারবালার ইতিহাস

কারবালার ইতিহাস

#কারবালার_ময়দানে_ইমাম_হোসাইন_ও_তার_পরিবারের_নির্মম_হত্যাকাণ্ডের_প্রকৃত_ইতিহাস!

কারবালার ইতিহাস এক সাগর রক্তের ইতিহাস, কারবালার ইতিহাস আহলে বায়াতের লাশের ইতিহাস, কারবালার ইতিহাস পাপিষ্ট ইয়াজিদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ইতিহাস!কারবালার ইতিহাস শিক্ষা দেয় মানবগড়া মতবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে রাসূলুল্লাহর আদর্শকে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাস্তবায়নের জন্য জিহাদ করে যাওয়া!
হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্বের ভাষনে বলেন আমি তোমাদের নিকট ২ টি জিনিস রেখে যাচ্ছি ১ আল কুরআন ২ হাদিস / সুন্নাহ। াঅন্য রেওয়াতে আছে কোরআন ও আহলে বায়েত।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إنی تارکت فيکم الثقلين ما ان تمسکتم به لن تضلّوا بعدی؛ أحدهما أعظم من الآخر: کتاب الله حبل ممدود من السماء إلی الأرض و عترتی اهل بيتی، لن يفترقا حتی يردا عليَّ الحوض، فانظروا کيف تخلفونی فيها.
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী (মূল্যবান) জিনিস (আমানত হিসেবে) রেখে যাচ্ছি। যদি তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধর তবে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। সেগুলো একটি অপরটির উপর প্রধান্য রাখে। ( সেগুলো হচ্ছে) আল্লাহর কিতাব যা আসমান হতে জমিন পর্যন্ত প্রসারিত (রহমতের) ঝুলন্ত রশির ন্যায় এবং অপরটি হলো আমার বংশধর; আমার আহলে বাইত। এরা হাউযে কাওসারে আমার সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত কখনও একে অপর হতে আলাদা হবে না। অতএব, তোমরা লক্ষ্য রেখ যে, আমার (ছেড়ে যাওয়া) আমানতের সঙ্গে কিরূপ আচরণ করো।” (সূত্র: সুনানে তিরমিযি, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৬৬৩।)

আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনে সূরা-শুরা’র ২৩নং আয়াতে ইরশাদ করেন-ﻗُﻞْ ﻟَﺎ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﺟْﺮًﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤَﻮَﺩَّﺓَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻘُﺮْﺑَﻰٰ “হে নবী বলুন- (হে পৃথিবীর সকল মানব জাতি) আমি তোমাদের থেকে (ধর্মপ্রচার ও হেদায়ত এবং পথ প্রর্দশন) এর বিনিময়ে কোন কিছু প্রতিদান চাইনা।
শুধু চাই আমার নিকটতম আত্মীয় স্বজনের ভালবাসা”প্রাসঙ্গিক আলোচনা :-উপরে উল্লিখিত আয়াতে কারীমা দ্বারা বুঝা গেল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আত্মীয়দের মুহব্বত করা আল্লাহ্ পাক ফরজ করে দিয়েছেন। অতএব,চিন্তা করে দেখতে হবে যে, এ
আত্মীয়গণ কারা এ আয়াত কারীমা নাযিল হওয়ার পর সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলাল্লাহ (দঃ) আপনার নিকটতম আত্মীয় স্বজন কারা, যাদের ভালবাসা আল্লাহ আমাদের উপর ফরয করে দিয়েছেন। নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন- তাঁরা হল হযরত আলী (রাঃ) হযরত ফাতেমা (রাঃ) তাঁদের ছেলে ইমাম হাসান (রাঃ) ইমাম হুসাইন (রাঃ) এবং এদের কে ইসলামে বলা হয় পাকপাঞ্জাতন। (যুরকানী আলাল,মাওয়াহেব, সাওয়াই মুহরিকা) যেমন: হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রা:)থেকে বর্নিত, আত্মীয়গণ দ্বারা হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র নূরানী বংশধরগণ কে বুঝানো হয়েছে। (বোখারী শরীফ) সুতরাং দুনিয়া ও আখিরাতে নাযাত পাওয়ার পূর্ব শর্ত হলো আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা থাকা। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূরানী জবানের ঘোষণা:নবীজীর সাহাবী হযরত আবূ যর (রা:) হতে বর্নিত তিনি বলেন- নিশ্চয়ই আমার আহলে বাইতগণ তোমাদের জন্য
হযরত নূহ (আ:) এর কিস্তির মত। এতে যারা আরোহন করেছে তারাই মুক্তি পেয়েছে, এবং যারা আরোহন করে নাই, অর্থাৎবিরোধিত করেছে তারা ধংস হয়েছে। (মিশকাত শরীফ পৃষ্ঠা নং-৫৭৩) উল্লেখিত কালামূল্লাহ শরীফ ও সহীহ হাদিস থেকে জানা যায়-নামায,রোযা,হজ্ব ও যাকাত প্রভৃতি ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূলের ভালবাসা অর্জন করতে হলে সর্ব প্রথম নবীজীর পরিবার
কে ভালবাসতে হবে ও তাঁদের নৈকট্য অর্জন করতে হবে। এখন লক্ষ্য করা যাক,যারা হযরত নূহ (আ:) এর কিস্তির মধ্যে আরোহন করেছিল। তারাই একমাত্র মুক্তি পেয়েছিল এবং যারা অবাধ্য হয়ে বিরোধিতা করল তারা ধংস হয়ে গিয়েছিল। তাই নবীজি বলেছেন হযরত নূহ (আ:) এর উম্মতের উপর যেভাবে তুফান এসেছিল শেষ যমানায় উম্মতে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর একইভাবে তুফান আসতে পারে এটা নিশ্চিত জানতেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তবে নূহ (আ:) এর উপর যে তুফান টি এসেছিল তা ছিল বাহ্যিক। তথা প্রকাশ্য, অতঃপর উম্মতে মুহাম্মদির উপর তুফানটি হবে অপ্রকাশ্য। তাদের ঈমান আকিদার উপর দিয়ে বয়ে যাবে অনেক মহাপ্লাবন। সে প্লাবনে অনেক মানুষের মূল্যবান ঈমান হারিয়ে যাবে। তাই নবী পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন সেই মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পেতে হলে যেভাবে হযরত নূহ (আ:) এর উম্মতগণ তাঁর আদেশে তাঁর
কিস্তিতে আরোহন করেছিল তারাই শুধু মুক্তি পেয়েছিল। তাই আমার শেষ যামানায় উম্মতদের মুক্তির জন্য যে জাহাজ রেখে যাচ্ছি তারা আমার আহলে বাইত। অর্থাৎ- আমার আওলাদের সাথে যাদের ভালবাসার সম্পর্ক থাকবে তারাই শুধু মুক্তি পাবে।এবং জাহান্নামের আগুন
থেকে নাজাত পাবে। নিম্নের হদীছ শরীফ গুলো আরোও গুরত্ত্ব বহন করে-
ﻗﺎﻝ ﻭﺃﻧﺎ ﺗﺎﺭﻙ ﻓﻴﻜﻢ ﺛﻘﻠﻴﻦ، ﺃﻭﻟﻬﻤﺎ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻬﺪﻯ
ﻭﺍﻟﻨﻮﺭ، ﻓﺨﺬﻭﺍ ﺑﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﺳﺘﻤﺴﻜﻮﺍ ﺑﻪ ” ﻓﺤَﺚَّ ﻋﻠﻰ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﻏَّﺐَ ﻓﻴﻪ، ﺛﻢ ﻗﺎﻝ ”: ﻭﺃﻫﻞ ﺑﻴﺘﻲ، ﺃﺫﻛِّﺮَﻛُﻢُ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺃﻫﻞ ﺑﻴﺘﻲ، ﺃﺫﻛِّﺮَﻛُﻢُ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺃﻫﻞ ﺑﻴﺘﻲ، ﺃﺫﻛِّﺮَﻛُﻢُ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺃﻫﻞ ﺑﻴﺘﻲ অনুবাদ: নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান-আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী ও সর্বোত্তম জিনিস
রেখে যাচ্ছি । এক. আল্লাহ তা’আলার কিতাব যার মধ্যে হেদায়াত এবং নূর রয়েছে । একে ভালভাবে ধারণ কর । কিতাবুল্লাহর উপর মানুষদিগকে উৎসাহ দিয়েছেন । দ্বিতীয় হচ্ছে,আমার আহলে বাইত । আমি তোমাদেরকে আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর ভীতি প্রদর্শন
করছি । তোমরা আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। [মুসলিম শরীফ] হযরত জাবের (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে,
বিদায় হজ্বের ভাষণে রাসূল পাক (দ.) ঘোষণা করেছেন,“ইয়া আয়্যুহান্নাছু ইন্নি তারাকতু ফি কুম মা ইন্ আখাজতুম লান তাদেল্লু
বায়দি আউয়ালুহা কেতাবাল্লাহে ওয়া এতরাতি আহলে বায়াতি।”অর্থাৎ, “হে মানবমণ্ডলী আমি তোমাদের নিকট যা রাখিয়া যাচ্ছি তা যদি আঁকড়িয়ে থাক তবে পথভ্রষ্ট হবে না। প্রথমটি আল্লাহর কেতাব, দ্বিতীয়টি আমার আহলে বাইত।”(মুসলীম শরীফ)
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﺣﺒﻮﻧﻰ ﻟﺤﺐ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﺣﺒﻮﺍ ﺍﻫﻞ ﺑﻴﺘﻰ ﻟﺤﺒﻰ অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আালায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান,আল্লাহর ভালবাসার কারণে আমাকে ভালবাস আর আমার কারণে আমার আহলে বাইতকে ভালবাস। [তিরমিযী শরীফ] হযরত ইমাম হাসানও ইমাম হুসাইন (রা:) হলেন সকল জান্নাতী যুবকদের সর্দার। হাদীসে পাকে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- হযরত ইমাম হাসান ও হুসাইন (রা:) জান্নাতের অধিবাসীদের সকলের
সর্দার। (মিশকাত শরীফ ৫৭০ পৃষ্ঠা) ইমাম হাসান ও হুসাইন (রা:) এমন বিশেষ ব্যক্তিত্ব যাঁদেরকে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত্ম ভালবাসতেন এবং যারা তাঁদেরকে ভালবাসবে তাদের জন্য আল্লাহর ভালবাসা লাভে সুসংবাদ প্রদান করেছেন। পবিত্র হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে, (আল্লাহর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন) হে আল্লাহ! আমি (নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) হাসানও হুসাইনকে ভালবাসি। অতএব (আল্লাহ) আপনিও তাঁদের ভালবাসুন। আর যারা হাসানও হুসাইনকে (রা:) ভালবাসে সে প্রেমিকদেরকে (আল্লাহ) আপনি ভালবাসুন। (মিশকাত শরীফ ৫৭০ পৃষ্ঠা)। হাদীসে পাকে মাধ্যমে একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হল যে, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র বংশধর তথা আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা কুরআনে কারীমের মতই । যেমনিভাবে ঈমানের জন্য কুরআনকে মানা অপরিহার্য,তেমনি ভাবে নবীজীর আহলে বাইতকেও মানা ও ভালোবাসা অপরিহার্য ।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, যে-ই চায় আকাশগুলোর বাসিন্দা ও পৃথিবীর বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিকে দেখতে, তাহলে তার উচিত হুসাইনের দিকে তাকানো। (মিজান আল হিকমাহ, হাদীস নং ৪৩২)
عنه صلى الله عليه و آله : أمّا الحُسَينُ فَإنَّهُ مِنّي وَ هُوَ ابني وَ وَلَدي وَ خَيرُ الخَلقِ بَعدَ أخيهِ وَ هُوَ إمامُ المُسلِمينَ وَ مَولى المُؤمِنينَ وَ خَليفَةُ رَبِّ العالَمينَ وَ غياثُ المُستَغيثينَ وَ كَهفُ المُستَجيرينَ وَ حُجَّةُ اللّهِ عَلى خَلقِهِ أجمَعينَ وَ هُوَ سَيِّدُ شَبابِ أهلِ الجَنَّةِ وَ بابُ نَجاةِ الاُمَّةِ أمرُهُ أمري وَ طاعَتُهُ طاعَتي مَن تَبِعَهُ فَإنَّهُ مِنّي وَ مَن عَصاهُ فَلَيسَ مِنّي.
রাসূল (সা.) বলেছেন, “আর হুসাইনের (আ.) বিষয়ে—সে আমার থেকে, সে আমার সন্তান, আমার বংশ, মানবজাতির মধ্যে তার ভাইয়ের পরে শ্রেষ্ঠ। সে মুসলমানদের ইমাম, মুমিনদের অভিভাবক, জগতসমূহের রবের প্রতিনিধি, তাদের সাহায্যকারী যারা সাহায্য চায়, তাদের আশ্রয় যারা আশ্রয় খোঁজে, সে আল্লাহর দলিল বা প্রমাণ গোটা সৃষ্টিজগতের জন্য, সে বেহেশতের যুবকদের সর্দার, উম্মতের নাজাতের দরজা। তার আদেশই হল আমার আদেশ, তার আনুগত্য করা হল আমারই আনুগত্য করা। যে-ই তাকে অনুসরণ করে সে আমার সাথে যুক্ত হয় এবং যে তার অবাধ্য হয় সে আমার সাথে যুক্ত হতে পারে না।” (আমালি শেখ সাদুক, পৃ: ১০১,মিজান আল হিকমাহ, হাদিস নম্বর-৪২৮)
বারাআ ইবনে আযিব বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি ইমাম হুসাইন (আ.)-কে বহন করছেন এবং বলছেন, ” হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি তাকে ভালবাসি, তাই আপনিও তাকে ভালবাসুন।” (মিজান আল হিকমাহ, হাদীস-৪২৯; বুখারি, হাদিস-২১৫০; মুসলিম, হাদিস-৬০৭৭

কারবালার ময়দানে মহব্বতের কোন স্থান ছিল না সেখানে তুমুল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে আহলে বায়াত ও পাপিষ্ট ইয়াজিদের বাহিনীর মধ্যে! ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর কারবালার প্রান্তরে এক অসম যুদ্ধ শুরু হলো। কুপার অধিবাসীগন ইমাম হোসাইন (রাঃ) কাছে চিঠি পাঠান কয়েকবার তারা ইয়াজিদের হাতে বায়আত গ্রহণ করবে না। তাই তারা বারবার চিঠি পাঠান, তখন ইমাম হোসাইন (রাঃ) সাহাবায়ে কেরাম গনের পরামর্শ গ্রহণ করেন যদিও অনেকে নিষেধ করেছিল তবুও ইমাম হোসাইন (রাঃ) নানার দীন কায়েম করতে ও অত্যাচারি ইয়াজিদ এর হাত থেকে ইসলামকে হেফাজত করতে রওনা হন কুপার উদ্দেশ্য। তখন কুপার গভর্নর ছিল নোমান ইবনে বাশীর (রাঃ) ইয়াজিদ ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ কে আদেশ দিলেন তুমি কুপার গভর্নরকে সরিয়ে দাও এবং তুমি দায়িত্ব গ্রহণ কর। কুপা বাসীকে সাইজ কর হুসাইন (রাঃ) কে কুপায় প্রবেশ করতে দিবে না। ইয়াজিদের সৈন্যরা হুসাইনের ভ্রাতুষ্পুত্র কাশিম সর্বপ্রথম শত্রুর আঘাতে শাহাদাত বরন করলেন। তৃষ্ণার্ত হুসাইন শিশুপুত্র আসগরকে কোলে নিয়ে ফোরাত নদীর দিকে অগ্রসর হলেন কিন্তু ইয়াজিদ বাহিনীর নিক্ষিপ্ত তীর শিশুপুত্রের শরীরে বিদ্ধ হয়ে শিশুপুত্রটি শাহাদাত বরন করলে একাকী অবসন্ন হুসাইন তাবুর সামনে বসে পড়লেন। এমন সময় এক মহিলা তাকে এক পেয়ালা পানি এনে দিলো। কিন্তু শত্রুর তীর তার মুখ বিদীর্ণ করে দিলো। সীমার নামীয় ইয়াজিদের এক সৈন্য তরবারীর আঘাতে হুসাইনের মস্তক শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলো। এই ভয়ংকর দৃশ্যে কঠিন হৃদয়ও বিগলিত হলো। হুসাইন পরিবারের জীবিত সদস্যদের বন্দী করে দামেস্কে ইয়াজিদের নিকট পাঠানো হয়। এদিকে হুসাইনের মৃত্যুর এমন ভয়াবহ দৃশ্য পুরো দেশের মানুষকে বিক্ষুদ্ধ করে তুলল। ইয়াজিদ ভয় পেয়ে গেলো। ক্ষমতা নিরাপদ রাখতে এবং জনরোষের ভয়ে কৌশলী ভুমিকায় সে বন্দিদের মুক্ত করে মদীনায় পাঠিয়ে দিলো। পরবর্তী বছর মক্কা-মদিনাবাসী বিদ্রোহ করলে সেখানে গন হত্যা চালিয়ে যায় পাশুন্ড ইয়াজিদ বাহিনি।
ইমাম হোসাইন রাঃ কে শহিদ করার পর ইয়াজিদ বাহিনী হযরত ইমাম হোসাইন রাঃ মাথা মোবারক ও বন্দীদের কে নিয়ে দামেস্কে ইয়াজিদের পাশাদে নিয়ে গেল, তখন ইয়াজিদ মায়া কান্না করে দেখালেন যে সে হত্যার সাথে জরিত নয়। তখন সে সে বলেন হে জয়নুল আবেদীন তুমি কি চাও? জয়নুল আবেদীন বলেন ৪ টি শর্ত উল্লেখ করেন।
১. আমার বাবার মস্তক মোবারক আমাদের দেওয়া হোক আমরা কাফন দাফন করবো। যদিও তা মানা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা করতে দেয়নি।
২. যারা আহলে বায়েত কে শহিদ করেছে তাদের শাস্তি প্রদান করা হোক। ইয়াজিদ বলেন খুলি তুমি হত্যা করেছো খুলি বলেন আমি না শিমার হত্যা করেছে। শিমার বলে আমি না আব্দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ হত্যা করেছে। জিয়াদ বলে আমি না উপর থেকে হুকুম ছিল। এভাবে আর বিচার করা হয়নি। বরং ইয়াজিদ খুশি হল
৩. আজকে দামেস্কে জুমার খুতবা আমাকে দেয়া হোক। কিন্তু যখন জয়নুল আবেদীন রাঃ একে একে কোরআনের আয়াত বলতে লাগলেন আহলে বায়েত সম্পর্কে ইয়াজিদ ভয় পেয়ে গেলেন না যানি দামেস্কের অধিবাসী তার গলা চেপে ধরে। তখন সে মোয়াজ্জিন একামত দিতে বলেন।
৪. আমাদেরকে নিরাপদে মদিনায় যেতে দেয়া হক। এই দাবী মানা হয়েছিল।

# ইয়াজিদের শেষ পরিণতিঃ

ইয়াজিদ ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে শহিদ করার পর ভেবেছিল আরবের সকল মানুষ আমাকে ভয় করবে আমার কাছে বায়আত গ্রহণ করবে। কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবে না এমন ধারণা ছিল তার। সে ভেবেছিল যখন আমি হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আওলাদদের শেষ করে দিতে পেরেছি কাজেই এবার আমার সামনে দাড়ানোর মতো আর কোনো শক্তি নেই। কিন্তু যখন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আওলাদের বন্দী করে কুফা ও সামের বাজারের উপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন সেখানকার অধিবাসীদের মন কঠোর হয়ে উঠ। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই ভাবতে লাগলো যে ইসলাম আল্লাহর দ্বীন আর হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর মনোনীত রাসূল। আর এই বংশ আল্লাহর প্রিয়বন্ধু হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সব থেকে কাছের। আর এই বংশের সাথে যে এমন কাজ করতে পারে তাকে বাদশা মানা সব থেকে বড় অপরাধ হবে। এই ঘটনা দেখে মদিনার শাসক যখন ইয়াজিদের শাসনকে অস্বীকার করেন এবং জালেমের কাছে আমরা বায়আত গ্রহণ করবো না। এই মর্মে প্রতিঞা করলো মদিনার তৎকালীন শাসক এই কথা শুনে ইয়াজিদ প্রচন্ড রাগ হয়ে উঠে। মদিনার সে হামলা করে বসলো। তিনদিন ধরে এই হামলা চালিয়ে যায়। এবং ইয়াজিদের সৈন্যরা মসজিদে নববীতে তাদের ঘোড়া বেধে রেখে হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা মোবারক এ তারা বেয়াদবি করতে লাগলো। এর সাথে সাথে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ করতে লাগলো। এতে ইয়াজিদ প্রচন্ডরাগ হয়ে আরো অত্যাচার করতে লাগলো। এরফলে ইয়াজিদের সৈন্যের হাতে থাকা মশাল পবিত্র কাবা শরিফ এ ছিটকে পড়ে যায়। এবং আগুন লেগে যায়। তবে বেশ কয়েক জন ঐতিহাসিক বিদরা বলেন। ইয়াজিদের হুকুমে সৈন্যরা নাকি খানায়ে কাবায় আগুন লাগিয়ে ছিল। এই ঘটনাকে হেরার ঘটনা নামে আজও মনে করা হয়। তখন সবাই ইয়াজিদকে আরো প্রচন্ড রকম প্রতিবাদ করতে লাগলো। ইয়াজিদের বিরুদ্ধে যে কথা বলত তাকেই কঠিন শাস্তি দিয়ে হত্যা করতো। কিন্তুু আল্লাহর আদালত ন্যায় বিচার হয়। এই ঘটনার বেশ কিছু দিন পর ইয়াজিদের এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। ইয়াজিদের পেটের বিতর নাড়িভুড়ি জ্বলতে থাকে আর সে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যেত। প্রতিদিন সকালে সে তরতাজা হয়ে উঠতো কিন্তু সন্ধার সময় সারাদিন নাড়ি জ্বলতে জ্বলতে তার অবস্থা ধরাশায়ী হয়ে যেত। শহরের বড় বড় হেকিম কবিরাজ এসে চিকিৎসা করে কোনো কুল কিনারা খুঁজে পাচ্চিলো না। কোনোভাবেই তাকে সুস্থ করা যাচ্ছে না। তারা চিন্তায় পড়ে যায় এবং বলে আমরা এই ধরনের রোগ এই প্রথম দেখলাম এর আগে কখনোই দেখিন। যখন ইয়াজিদের পিপাসা পেতো তখন পিপাসায় হাস পাশ শুরু করে দিত। সে পানির জন্য কস্ট পেত। কিন্তু যখনি একটু পানি মুখে দিত তার নাড়িভুড়ি জ্বলতে থাকতো। তার সামনে লোকজন বলতে থাকে ইয়াজিদের এই কঠিন অবস্থা হল ইমাম হোসাইন (রাঃ) শিবিরে পানি বন্ধ করে আওলাদে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের খাবার পানি বন্ধ করে কস্ট দেয়ার কারণে হয়েছে। এতো বড় বাদশা হওয়ার পরেও একফোঁটা পানির জন্য এতো কস্ট পেতে হচ্ছে। এরই মাঝে ইয়াজিদ তার ছেলে মোয়াবিয়াকে ডাকে। ইয়াজিদ তার পিতার নাম অনুসারে সন্তানের নাম রাখেন মোয়াবিয়া। তো ইয়াজিদ যখন তার ছেলে মোয়াবিয়া কে ডাকলো তখন ইয়াজিদ তার ছেলেকে বলেন প্রিয় পুত্র আমার এই কঠিন রোগে পযন্ত আমার প্রান কেরে নিতে পারে। আমার মৃত্যুর পরে তুমি আমার শাসনভার সামলাবে। তখন তার ছেলে বলে উঠলো এই সিংহাসন ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রাঃ) রক্ত দিয়ে রঞ্জিত। এই সিংহাসন আওলাদে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রক্তে রঞ্জিত। সকল মানুষ আপনাকে এর জন্য ঘৃণা করে। আপনি কি চান এই আওলাদে রাসূলে পাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তে রঞ্জিত সিংহাসনে উঠে আমি আমার নিজেকে পাপ দ্বারা রঞ্জিত করি? আমি এই আসেন আসীন হবো না। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। ইয়াজিদ দুখে কস্টে ভেঙ্গে পড়ে। এবং বলে আমার পোসা বানরটা কোথায়। সৈন্যরা জবাব দেয় বানরটি বনের দিকে চলে গেছে। তখন ইয়াজিদ তার সৈন্যদের নিয়ে বানর খোঁজার জন্য বের হলেন। পথে চলতে থাকে চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে ইয়াজিদ ঘোড়া থেকে নিচে পরে যায়। েএবং ঘোড়ার লাগাম তার পায়ের সাথে আটকে যায় তখন ও ঘোড়াটি দোড়াতে থাকে এক সময় ইয়াজিদএর মাথা পেটে রক্ত বের হতে থাকে তবুও ঘোড়াটি দোড় থামায়নি এক সময় ইয়াজিদ এর মাথা দেহ চুন্ন বিচিন্ন হয়ে যায় এমনকি তার সৈন্যরা পযন্ত তাকে সনাক্ত করতে পারে না। এভাবেই মহান আল্লাহর লানত তার উপর নাযিল হয়েছে। আজও মানুষ ইয়াজিদকে ঘৃণার চোখে দেখে ।

# মোহারম মাসের আমল ঃ বুনিয়াতুল তলেবিন কিতাবের ৪২৭ পৃষ্ঠায় হযরত আবদুল কাদের জীলানি (রাঃ) উল্লেখ করেন হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন আশুরার দিনে ৪ রাকাত নামায আদায় কররতে প্রতি রাকাতে ৫০ বার সূরা ইখলাস পড়লে পিছনের ৫০ বছর ও সামনের ৫০ বছরের গুনাহ মাফ হবে। এবং জান্নাতে ১০০০ টি ঘর বানিয়ে দেওয়া হবে।

অন্য আরেক রেওয়াতে আছে ২ রাকাত করে ৪ রাকাত নামাজ আদায় করা প্রতি রাকাতে সূরা ইখলাস ১১ বার পাঠ করা।

আশুরার মাসে ২ টি রোজ রাখা ৯-১০/ ১০-১১ তারিখে রোযা রাখা অনেক সওয়াব এর কাজ পুরো বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়।

#কারবালার_শিক্ষাঃ
ইমাম জয়নুল আবেদীন (রাঃ) তিনি কারবালার পুরোনো ঘটনা স্বচখে দেখেছেন আর যে জুলুম যে কস্ঠ হুজুর কারীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আওলাদে পাকের উপর করা হয়েছিল উনাদেরকে যারা ভালবাসতেন তাদের উপর যা করা হয়েছিল এই ব্যাথা হয়তো আমরা ওভাবে অনুভব করতে পারবো না যেভাবে হযরত জয়নুল আবেদীন (রাঃ) অনুভব করতেন। যখনি তিনি পান করতেন চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরত কারন বিপক্ষে অন্য আর কেউ ছিল না যারা ছিল তারাও মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কালেমা পাটকারী ছিল কিন্তু তারা এই বিষয়টি দেখে নি যে কাদের উপর অত্যাচার করছে ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ স্ব চখে এসব দৃশ্য দেখেছিলেন আর উনার জানা ছিল যে, বিচ্ছেদের কস্ট কত কঠিন হয়। কিন্তু দেখুন, যে শিক্ষা নবুয়তের ঘর থেমে তিনি পেয়েছেন, তার প্রভাব কেমন যখন কারবালার ঘটনা ঘটে গেল আর এরপর মুখতার সাক্বাফি ইয়াজিদের হত্যা করা শুরু করেছিল যারা ইয়াজিদ ছিল তারা পালাত এদিক সেদিক আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করত বর্ণিন হয়েছে, তখন হজ্জের সময় ছিল আর ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ হজ্জের নিয়ত করলেন ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ এক দুইদিন সফর করতেন এবং তাবু টাঙিয়ে অবস্থান করতেন এমন সময় এক ব্যাক্তি দৌড়াতে দৌড়াতে নিজেকে বাচানোর জন্য, উনি যে তাবু লাগিয়েছিলেন, তার পাশে চলে আসল আর যখন পদ্দা উঠলো তখন দেখতে পেল সামনে ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ আছেন। সে ভয় পেল, ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ তো এখন আমার থেকে প্রতিশোধ নিবেন তখন সে পালাতে লাগলো তখন ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ উনার খাদেম ডেকে বলে যাও তাকে আমার নিকট নিয়ে আসো । তাকে দরে নিয়ে আসো এবং আসলো ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ তাকে নিজের খাবার যা তিনি খেতেন তা তাকে খাওয়ান। এবং নিজের ঘুমানোর জায়গায় ঘুমাতে দেন এবং নিজের সাথে রাখেন। তিনদিন পর যখন সে চলে যাচ্ছিল তখন ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ তাকে ৩০০ দিরহাম দান করলেন তখন ঐ ব্যাক্তি আরয করলেন হে জয়নুল আবেদীন রাঃ আপনি আমাকে চিনতে পারেনি ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ ছোখ দিয়ে অশ্রু ঝরা শুরু করল, ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ বলেন হে ব্যক্তি! হে সানান ইবনে আনাস! আমি তোমাকে কিভাবে ভুলতে পারি? তুমি তো ঐ ব্যক্তি যে আমার বড় ভাই আলী আকবরের বুকে প্রথম তলোয়ার চালিয়ে ছিল। আমি তোমাকে কিভাবে ভুলতে পারি? লোকটি বলল আপনি আমাকে চিনতেও পেরেছেন, প্রতিশোধ নেননি বরং এত ভালো আচরণ করেছেন এর কারন কি? হযরত ইমাম জয়নুল আবেদীন রাঃ এর জবাব শুনুন হে সানান! ঐ সময় আমরা তোমাদের মেহমান ছিলাম আর তোমরা আমাদের সাথে যা করেছ সেটা তোমাদের রীতি ছিল কিন্তু আজ কে তুমি এসেছ হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আওলাদের নিকট আর হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আওলাদের নিকট যে চলে আসে তার সাথে ঐ ধরনের আচরণ করা হয় যা আমি তোমার সাথে করেছি।

ইমাম হোসাইন কারবালার ময়দানে নিজের ও তার পরিবারের জীবন বিসর্জন দিয়ে প্রমাণ করলেন কোন মোমিন মুসলমানকে কোরআন সুন্নাহর আইন ব্যতীত অন্য কোন মানব গড়া আইনকে মেনে নেওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম!

ইমাম হোসাইন ও ইয়াজিদ বাহিনীর মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তার কারণ হচ্ছে ইয়াজিদ কোরআন সুন্নাহর সংবিধানকে অস্বীকার করে নিজের বানানো সংবিধান অনুযায়ী খেলাফত পরিচালনার ঘোষণা করেছিল!

# কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণকারী
৭২ জন মর্দে মুজাহিদের নামঃ
১.ইমামুশ শোহাদা, তাজেদারে কারবালা
ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২.সায়্যিদুনা আব্বাস বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩.সায়্যিদুনা জাফর বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫.সায়্যিদুনা উসমান বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬.সায়্যিদুনা আবু বকর বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৭.সায়্যিদুনা মুহাম্মদ বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৮.সায়্যিদুনা কাসিম বিন হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৯.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১০.সায়্যিদুনা আবু বকর বিন হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১১.সায়্যিদুনা আলী আকবর বিন ইমাম
হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১২.সায়্যিদুনা আলী আসগর বিন ইমাম
হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১৩.সায়্যিদুনা জাফর বিন আকিল রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১৪.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন মুসলিম রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১৫.সায়্যিদুনা আউন বিন আবদুল্লাহ বিন
জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১৬.সায়্যিদুনা মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ
জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১৭.সায়্যিদুনা আবদুর রহমান বিন আকিল
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১৮.সায়্যিদুনা মুহাম্মদ বিন আবু সাঈদ বিন
আকিল রাদিয়াল্লাহু আনহু।
১৯.সায়্যিদুনা আলী বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২০.সায়্যিদুনা হাবিব বিন মুযাহির রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২১.সায়্যিদুনা মুসলিম বিন আউসাজাহ আল
আসাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২২.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আমের আল
কালবী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২৩.সায়্যিদুনা আনস বিন হারেস রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২৪.সায়্যিদুনা বারির বিন হুযাইর হামদানী
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২৫.সায়্যিদুনা যুহাইর ইবনুল ক্বাইয়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২৬.সায়্যিদুনা হাজ্জাজ বিন মাসরুক্ব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২৭.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন উমাইর আল
কালবী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২৮.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আযরাহ আল
গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২৯.সায়্যিদুনা নাফি’ই বিন হিলাল আল
জামালী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩০.সায়্যিদুনা জাফর বিন হিজ্জাজ আত
তামিমী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩১.সায়্যিদুনা জাবালাহ বিন আলী আস
শাইবানী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩২.সায়্যিদুনা জুনাদাহ বিন হারেস বিন
সোলাইমান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩৩.সায়্যিদুনা জুনাদাহ বিন কাব আল
আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩৪.সায়্যিদুনা হানযালাহ বিন আস’আদ আশ
শাবামী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩৫.সায়্যিদুনা হাবশ বিন কায়েস নাহমী
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩৬.সায়্যিদুনা যায়ন বিন মালিক আত
তাইমী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩৭.সায়্যিদুনা আবদুর রহমান বিন আবদ রাব্বিহী আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩৮.সায়্যিদুনা ওমর বিন জুনাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩৯.সায়্যিদুনা ওমর বিন কারযাতুল
আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪০.সায়্যিদুনা ওহাব বিন আবদুল্লাহ আল
কালবী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪১.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন বিশর আল
খুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪২.সায়্যিদুনা ওয়াক্বিয়াহ বিন সায়িদ আল
হাতিমুত তাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪৩.সায়্যিদুনা আইমর বিন হিশাম বিন আল হাতিমুত তাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪৪.সায়্যিদুনা মুসলিম বিন উযাইর বিন আল হাতিমুত তাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪৫.সায়্যিদুনা আসলাম আত তুরকী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪৬.সায়্যিদুনা সাইফ বিন হারেছ বিন সুরায়’ঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪৭.সায়্যিদুনা হারেছ বিন সুরায়’ঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪৮.সায়্যিদুনা কাসেম বিন হাবিব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪৯.সায়্যিদুনা মাসউদ বিন হাজ্জাজ
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫০.সায়্যিদুনা যিয়াদ বিন আযিয আশ
শায়দাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫১.সায়্যিদুনা যাহির বিন আমর আল কিন্দী
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫২.সায়্যিদুনা সায়িদ বিন আবদুল্লাহ আল
হানাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫৩.সায়্যিদুনা সালমান বিন নাজ্জার
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫৪.সায়্যিদুনা সুওয়াইদ বিন আমর বিন
আবিল মুত্বা আল খাছ’আমী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫৫.সায়্যিদুনা সাইফ বিন মালিক আবদী
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫৬.সায়্যিদুনা যারগামাহ বিন মালিক
তাগলাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫৭.সায়্যিদুনা শাউযাব বিন আবদুল্লাহ আশ শাকেরী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫৮.সায়্যিদুনা ইয়াহইয়া বিন সালেম আল
ইযদী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৫৯.সায়্যিদুনা আবেস ইবনে আবি হাবিব
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬০.সায়্যিদুনা ওমর বিন আবদুল্লাহ জন্দী
রাদিয়াল্লাহু আনহ।
৬১.সায়্যিদুনা মাউক্বা বিন সা মানাহ
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬২.সায়্যিদুনা নোমান বিন আমর আর রাসী
রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬৩.সায়্যিদুনা আয়েদ বিন যিয়াদ আল
ক্বায়দী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬৪.সায়্যিদুনা আয়েদ বিন মেগবীল আল খাউক্বী।
৬৫.সায়্যিদুনা হুর বিন ইয়াযিদ আররিয়্যাহী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬৬.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন ইয়াযিদ
আররিয়্যাহী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬৭.সায়্যিদুনা আবদুল আলা বিন ইয়াযিদ
আররিয়্যাহী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬৮.সায়্যিদুনা মাআ’স বিন ইয়াযিদ
আররিয়্যাহী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৬৯.সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন বুকতূর
রাদিয়াল্লাহু আনহু।(ইমাম হোসাইন-এর দুধু ভাই)
৭০.সায়্যিদুনা আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
(ইমাম হোসাইন -এর গোলাম)
৭১.সায়্যিদুনা মুনজিহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
(ইমাম হোসাইন-এর খাদিম)
৭২.সায়্যিদুনা আবদুর রহমান বিন উযরাহ আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
#সংগৃহীত

Leave a Reply