রাসূল (ﷺ) যেখানে যেখানে ইচ্ছা সেখানে পরিভ্রমণ করতে পারেন

রাসূল (ﷺ) যেখানে যেখানে ইচ্ছা সেখানে পরিভ্রমণ করতে পারেন

রাসূল (ﷺ) যেখানে যেখানে ইচ্ছা সেখানে পরিভ্রমণ করতে পারেন-😍😍😍একটু সময় নিয়ে পড়ুন 🙏🙏🙏

এ বিষয়ে ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতি (রহ) (ওফাত-৯১১হি.) এর প্রসিদ্ধ কিতাব [أَنْبَاءُ الْأَذْكِيَاءِ بِحَيَاةِ الْأَنْبِيَاءِ] এর ৭ পৃষ্ঠায় একটি হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন,

النَّظَرِ فِي أَعْمَالِ أُمَّتِهِ وَالِاسْتِغْفَارِ لَهُمْ مِنَ السَّيِّئَاتِ، وَالدُّعَاءِ بِكَشْفِ الْبَلَاءِ عَنْهُمْ، وَالتَّرَدُّدِ فِي أَقْطَارِ الْأَرْضِ لِحُلُولِ الْبَرَكَةِ فِيهَا، وَحُضُورِ جِنَازَةِ مَنْ مَاتَ مِنْ صَالِحِ أُمَّتِهِ، فَإِنَّ هَذِهِ الْأُمُورَ مِنْ جُمْلَةِ أَشْغَالِهِ فِي الْبَرْزَخِ كَمَا وَرَدَتْ بِذَلِكَ الْأَحَادِيثُ وَالْآثَارُ ـ

“উম্মতের বিবিধ কর্মকাণ্ডের প্রতি দৃষ্টি রাখা, তাদের পাপরাশির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের বালা মসিবত থেকে রক্ষা করার জন্য দুআ করা, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আনাগােনা করা ও বরকত দান করা এবং নিজ উম্মতের কোন নেক বান্দার ওফাত হলে তার জানাযাতে অংশগ্রহণ করা, এগুলােই হচ্ছে হুযুর (ﷺ) এর শখের কাজ। অন্যান্য হাদিস থেকেও এসব কথার সমর্থন পাওয়া যায়।” ১৯৬
{সুয়ূতি, আল-হাভী লিল ফাতওয়া, ২ : ১৮৪-১৮৫ পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত,লেবানন }

বিশ্ববিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী (রহ) তাফসীরে রুহুল বায়ানে, সূরা মূলকের ২৯নং আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন,

قال الامام الغزالي رحمه الله تعالى والرسول عليه السلام له الخيار فى طواف العوالم مع أرواح الصحابة رضى الله عنهم لقد رآه كثير من الأولياء ـ

“সুফীকুল সম্রাট হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী (রহ) বলেছেন, হুযুর (ﷺ) সাহাবায়ে কিরামের রূহ মােবারক সাথে নিয়ে জগতের বিভিন্ন স্থানে পরিভ্রমণের ইখতিয়ার (প্রমাণ) আছে । তাই অনেক আওলিয়া কিরাম তাদেরকে দেখেছেন।” ১৯৭
{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বয়ান : ১০/৯৯পৃ. সূরা মুলক, আয়াত নং-২৯।}

মিশকাত শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মিরকাতুল মাফাতীহ এ মােল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন,

بَابُ مَا يُقَالُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ الْمَوْت

ُ শীর্ষক অধ্যায়ের মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন-

وَلَا تَبَاعُدَ مِنَ الْأَوْلِيَاءِ حَيْثُ طُوِيَتْ لَهُمُ الْأَرْضُ، وَحَصَلَ لَهُمْ أَبْدَانٌ مُكْتَسَبَةٌ مُتَعَدِّدَةٌ، وَجَدُوهَا فِي أَمَاكِنَ مُخْتَلِفَةٍ فِي آنٍ وَاحِدٍ، ـ

“ওলীগণ একই মুহুর্তে কয়েক জায়গায় বিচরণ করতে পারেন। একই সময়ে তারা একাধিক শরীরের অধিকারীও হতে পারেন। ১৯৮
{আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী : মেরকাত চতুর্থ খন্ড, পৃ- ১০১ হাদিস নং-১৬৩২}

তাই এক সময়েই বহু জায়গায় মিলাদ মাহফিল হয় ওলীগণ যদি একাধিক শরীরে বহু জায়গায় যেতে পারেন তাহলে রাসূল (ﷺ) যেতে পারবেন না কেন? বরং তার সাথে কোন তুলনাই হতে পারে না ?

শিফা শরীফে ইমাম কাযী আয়ায আল-মালেকী (রহ) লিখেন,

قَالَ: إِنْ لَمْ يَكُنْ فِي الْبَيْتِ أَحَدٌ فَقُلْ السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ ـ

“যে ঘরে কেউ না থাকে, সে ঘরে (প্রবেশের সময়) বলবেন, হে নবী ﷺ আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত বর্ষিত হােক।” ১৯৯
{ইমাম কাজী আয়াজ : শিফা তাহরিফে মুকুকে মােস্তফা : ২/৪৩ }

এর ব্যাখ্যায় আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী (রহ) শরহে শিফা গ্রন্থে লিখেন,

أي لأن روحه عليه السلام حاضر في بيوت أهل الإسلام

“কেননা, নবী (ﷺ) এর পবিত্র রুহ মুসলমানদের ঘরে ঘরে বিদ্যমান আছেন।” ২০০
{আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী শরহে শিফা : ২/১১৮ পৃ, দারুল কুতুব ইসলামিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন ।}

রাসূল (ﷺ) এর দৃষ্টিতে সব কিছু হাযির ও নাযিরঃ

আমরা কি করি না করি তিনি তা রওজা শরিফ থেকে অবলােকন করেন। ইতােপূর্বে আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর হাদিস বর্ণনা করেছিলাম, সেখানে রয়েছে রাসূল (ﷺ) আমাদের ভালাে-খারাপ সব কাজ তিনি দেখতে পান। এ বিষয়ে আমরা দেখব,

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে,,

إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ رَفَعَ لِيَ الدُّنْيَا فَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا هُوَ كَائِنٌ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى كَفِّي هَذِهِ،.

“আল্লাহ তা’য়ালা আমার সামনে সারা দুনিয়াকে তুলে ধরেছেন। তখন আমি এ দুনিয়াকে এবং এতে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে এমনভাবে দেখতে পেয়েছি, যেভাবে আমি আমার নিজ হাতকে দেখতে পাচ্ছি।” ২০১
{ইমাম আবু নঈম: হুলিয়াতুল আউলিয়া: ৬১০১, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়তী : খাছায়েসুল কোবরা : ২/১৮৫ পৃ., ইমাম তাবরানী : মু’জামুল কবীর : ১/৩৮২পৃ., মুত্তাকী হিন্দিী : কানযুল উম্মাল : ১১/৪২০ হাদিসঃ ৩১৯৭১,
ইমাম কুস্তালানী ও মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া : ৩/৯৫ পৃ:, মুত্তাকী হিন্দী : কানযুল উম্মালঃ ১১/১৩৭৮ হাদিস : ৩১৮১০, হায়সামী ও মামাউদ যাওয়াহিদ : ৮/২৮৭ পৃ.,
হাদিসটির সনদের ব্যাপারে অনেক বাতিলপন্থী আপত্তি তুলেছেন। তাদের আপত্তির দাঁতভাঙা জবাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হাদিস শাস্ত্রের উপর গবেষনামূলক গ্রন্থপ্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানাের স্বরূপ উন্মােচন” ১ম খন্ডের ৫০৭-৫০৮পৃষ্ঠা দেখুন।}

হযরত ছাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,

إِنَّ اللهَ زَوَى لِي الْأَرْضَ، فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا،.

“আল্লাহ তা’য়ালা আমার সম্মুখে গােটা পৃথিবীকে এমনভাবে সঙ্কুচিত করে দিয়েছেন যে, আমি পৃথিবীর পূর্বপ্রান্ত ও পশ্চিমপ্রান্ত সমূহ স্বচক্ষে অবলােকন করেছি।” ২০২
{মুসলিম আস-সহীহ : ৪/২২১৬ হাদিস ২৮৮৯, আবু দাউল : আস-সুনান কিতাবুল ফিতান : ৪/৯৫ হাদিস ও ৪২৫২, ইমাম আহমদ : আল-মুসনাদ : ৫/২৮৪ হাদিস : ২২৫০, আবু দাউদ : আস-সুনান : ৪/৯৭ , হাদিস ৪২৫২, তিরমিজি : আস-সুনান ৪ হাদিস ১৮২, নাসায়ী : আস-সুনানে : হদিস ১৬২৭, ইবনে হিব্বান : আস-সহীহ : ১৬/ হাদীস : ৭২৩৬, ইবনে মাজাহঃ আস-সুনান : হাদীস ৩৯৫২, খতিব তিবরিযী : মেশকাতঃ ৪/৩৫৪পৃ. হাদীস ৫৭৫০}
******
পাকপান্জাতন গাউসিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মুন্সীগঞ্জ জিলা।

Leave a Reply