সর্বজনীন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

সর্বজনীন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

নবীজিকে “বিশ্ব নবী” বলা চরম বেয়াদবি।
দয়া করে সবাই একটু পড়েন!
বাংলাদেশের সাধারন জনগন “বিশ্ব নবী” বলে, সেটা মানা গেলেও কিছু ডঃ, শিক্ষিক, আলেম সমাজও নবীজিকে “বিশ্ব নবী” বলে হায় আফসোস।

“বিশ্ব নবী” বলা কেন চরম বেয়াদবি?
উঃ ১/বিশ্ব কি?= মানুষের দৃষ্টিগোচরিত ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যে পরিমান ভূমি, যার মধ্যে বিভিন্ন দেশের অবস্থান। এছাড়া জলরাশি, সাগর- মহাসাগর এ সমস্তকে একত্তে বিশ্ব বলে।

২/ বিশ্বের চেয়ে বড় কিছু আছে?
উঃ বিশ্বের চেয়ে বড় হলো মহাবিশ্ব।

৩/ মহাবিশ্ব কাকে বলে?
উঃ আকাশ, চন্দ্র, তারকারাজিসমূহ, সমন্বয় করে একত্রকে বলা হয় মহাবিশ্ব।

৪/ মহাবিশ্বের চেয়ে বড় কিছু আছে?
উঃ ইউনির্ভাস।
এবার মূল কথা। মানুষের দৃষ্টির বাইরে আল্লাহ অনেক কিছু সৃষ্টি রয়েছে। যা কোন মানুষ এখন পর্যন্ত উপলব্ধি করতে পারেনী বা বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করতে পারেনি। পৃথিবীতে বহু নবী, রাসূল আগমন ঘটেছে। যারা বিশ্ব জগতের বিভিন্ন প্রান্তে আগমন করে আল্লাহর হুকুম পালন করেছেন। আমাদের নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আল্লাহর হুকুম পালন করেছেন। কিন্তু তাঁর পরিধী ছিল ব্যাপক ও বিস্তৃত।

শুধু বিশ্বজগত নয়,মানুষের দৃষ্টিগোচরের বাইরেও আল্লাহর যে সমস্ত সৃষ্টি রয়েছে, সেখানেও নূর নবীজি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দায়িত্ব, মর্যাদাপূর্ণ সম্মান এবং রহমতস্বরূপ আল্লাহ তা’য়ালা প্রেরন করে মহাগ্রন্থ আল কোরআন শরীফ দ্বারা সত্যায়ন করেছেন।
আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ
আল-আম্বিয়া 21:107

وَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَٰلَمِينَ


“ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন ” অর্থাৎঃ আমি ত আপনাকে জগৎ সমূহের রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়াঃ আয়াত নং -১০৭)।
অর্থাৎ আল্লাহ পাক যে সৃষ্টির রব, নবীজি সে সৃষ্টির রহমত, অতএব আল্লাহ সৃষ্টি তো আর বিশ্বের ভিতরে সীমাবদ্ধ না, তাই নবীজীকে বিশ্বনবী বলা বোকামি,এবং বেয়াদপি ছাড়া আর কিছু না,,
অন্যান্য নবীদের দায়িত্ব ছিল শুধুমাত্ত বিশ্বজগতে। কিন্তু নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর দায়িত্ব জগতসমূহের যাবতীয় সৃষ্টির উপর।

٥٩١٨ – عَنْ أَبِي مُوسَى – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – قَالَ: «خَرَجَ أَبُو طَالِبٍ إِلَى الشَّامِ، وَخَرَجَ مَعَ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – فِي أَشْيَاخٍ مِنْ قُرَيْشٍ، فَلَمَّا أَشْرَفُوا عَلَى الرَّاهِبِ هَبَطُوا، فَحَلُّوا رِحَالَهُمْ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمُ الرَّاهِبُ، وَكَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ يَمُرُّونَ بِهِ فَلَا يَخْرُجُ إِلَيْهِمْ، قَالَ: فَهُمْ يَحُلُّونَ رِحَالَهُمْ، فَجَعَلَ يَتَخَلَّلُهُمُ الرَّاهِبُ، حَتَّى جَاءَ فَأَخَذَ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – قَالَ: هَذَا سَيِّدُ الْعَالَمِينَ، هَذَا سَيِّدُ الْعَالِمِينَ، يَبْعَثُهُ اللَّهُ رَحْمَةً لِلْعَالِمِينَ.
فَقَالَ لَهُ أَشْيَاخٌ مِنْ قُرَيْشٍ: مَا عِلْمُكَ؟ فَقَالَ: إِنَّكُمْ حِينَ أَشْرَفْتُمْ مِنَ الْعَقَبَةِ لَمْ يَبْقَ شَجَرٌ وَلَا حَجَرٌ إِلَّا خَرَّ سَاجِدًا. وَلَا يَسْجُدَانِ إِلَّا لِنَبِيٍّ، وَإِنِّي أَعْرِفُهُ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ أَسْفَلَ مِنْ غُضْرُوفِ كَتِفِهِ مِثْلَ التُّفَّاحَةِ،
وَأَنَا حَبِيبُ اللَّهِ وَلَا فَخْرَ، وَأَنَا حَامِلُ لِوَاءِ الْحَمْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، تَحْتَهُ آدَمُ فَمَنْ دُونَهُ وَلَا فَخْرَ، وَأَنَا أَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا فَخْرَ، وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يُحَرِّكُ حَلَقَ الْجَنَّةِ فَيَفْتَحُ اللَّهُ لِي فَيُدْخِلُنِيهَا وَمَعِي فُقَرَاءُ الْمُؤْمِنِينَ وَلَا فَخْرَ أَنَا أَكْرَمُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخَرِينَ عَلَى اللَّهِ وَلَا فَخْرَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ، وَالدَّارِمِيُّ.
٥٧٧٣ – (وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى فَضَّلَ مُحَمَّدًا رَسُولَ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – عَلَى الْأَنْبِيَاءِ وَعَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ. فَقَالُوا: يَا أَبَا عَبَّاسٍ) ! بِمَ فَضَّلَهُ عَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ؟ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ لِأَهْلِ السَّمَاءِ: {وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: ٢٩] وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمُحَمَّدٍ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا – لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ} [الفتح: ١ – ٢] قَالُوا: وَمَا فَضْلُهُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ؟ قَالَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ} [إبراهيم: ٤] الْآيَةَ، وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمُحَمَّدٍصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ} [سبأ: ٢٨] فَأَرْسَلَهُ إِلَى الْجِنِّ وَالْإِنْسِ.

٥٧٦٣ – وَعَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: نَحْنُ الْآخِرُونَ، وَنَحْنُ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَإِنِّي قَائِلٌ قَوْلًا غَيْرَ فَخْرٍ: إِبْرَاهِيمُ خَلِيلُ اللَّهِ وَمُوسَى صَفِيُّ اللَّهِ، وَأَنَا حَبِيبُ اللَّهِ، وَمَعِي لِوَاءُ الْحَمْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَإِنَّ اللَّهَ وَعَدَنِي فِي أُمَّتِي وَأَجَارَهُمْ مِنْ ثَلَاثٍ: لَا يَعُمُّهُمْ بِسَنَةٍ، وَلَا يَسْتَأْصِلُهُمْ عَدُوٌّ، وَلَا يَجْمَعُهُمْ عَلَى ضَلَالَةٍ» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ.

সুতরাং মহান আল্লাহর যতগুলো জগৎ রয়েছে। প্রত্যেক জগতে যতরকম সৃষ্টি রয়েছে, প্রত্যেকের উপর রহমতস্বরূপ এবং শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করে নূরনবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করা হয়েছে। তাহলে এতবড় সম্মান ও মর্যাদার অধিকারীরের দায়িত্ব প্রাপ্তকে “বিশ্ব নবী” বলা চরম বেয়াদবি।

বি দ্রঃ নবীজির শান -মানকে যারা ছোট করবে বুঝে নেবেন সে আবু জাহেল নয়তোবা শয়তানের চেলা। বা বংশধর।
সুতরাং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর ব্যাপারে কথা বলতে হলে বুজে, শুনে, বলতে হবে। না হয়, কখন যে ঈমান চলে যাবে সেটা আপনি উপলব্ধিও করতে পারবেন না।

বক্তাগণের প্রতি আকুল আহবান! নবীজির ব্যাপারে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
وخاطبوه بالتعظيم والتكريم والتوقير
———————————————————
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَن تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
মুমিনগণ! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ কথা বল, তাঁর সাথে সেরূপ কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিস্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না। (সূরা আল হুজরাত, ৪৯ঃ২)
لَّا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُم بَعْضًا ۚ
রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। (সূরা নুর, ২৪ঃ৬৩)
আল-আন‘আম 6:10
وَلَقَدِ ٱسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِٱلَّذِينَ سَخِرُوا۟ مِنْهُم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ
আর অবশ্যই তোমার পূর্বে রাসূলগণকে নিয়ে উপহাস করা হয়েছিল। ফলে যারা তাদের সাথে উপহাস করেছিল, তাদেরকে তাদের উপহাস বেষ্টন করে নিয়েছে।
وَلَقَدِ ٱسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَأَمْلَيْتُ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْۖ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ রা’দ 13:32
আর অবশ্যই তোমার পূর্বে রাসূলদের নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা কুফরী করেছে, আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়েছি, তারপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব, কেমন ছিল আমার আযাব!
وَلَقَدِ ٱسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِٱلَّذِينَ سَخِرُوا۟ مِنْهُم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ আল-আম্বিয়া 21:41
আর তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল; পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা করত তাই বিদ্রূপকারীদেরকে ঘিরে ফেলেছিল।*
* রাসূলগণ আযাব আসার ভয় দেখালে কাফিররা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। পরিশেষে তাদের ঠাট্টার বস্ত্ত অর্থাৎ আযাব এসে তাদেরকে ঘিরে ফেলত এবং সে আযাবই তাদেরকে গ্রাস করত।
নবি বলল, নবি করল, সাহাবি বলল, আবু বকর বলল, আলি বলল, মুসা বলল, খিজির বলল, ইসা বলল, নুহ ওঠে দাড়াল, জিবরিল বলল, ফাতেমা বলল, আয়েশা বলল, খাদিজা বলল!
আজব! মানে কী এসবের? এগুলো কী ধরনের বেয়াদবিমূলক সম্বোধন? এত সম্মানিত মহামানবগণ, সম্মানিত ফেরেশতা ও মহিয়ষী নারীগণকে কেউ এভাবে সম্বোধন করে?
অন্তত এভাবে বলুন, প্রিয় নবি ﷺ বললেন, করলেন, সাহাবাগণ বললেন, সাথে রাদিয়াল্লাহু আনহুম লাগালে সবচাইতে উত্তম হয়। আবু বকর সিদ্দিক রাঃ বললেন, করলেন, উমর ফারুক রাঃ বললেন, করলেন, মাওলা আলি (কাঃ) বা (রাঃ) বললেন, করলেন। মুসা আলাইহিস সালাম, ইসা আলাইহিস সালাম বললেন, করলেন, দাঁড়ালেন, ওঠলেন, বসলেন। আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ, খাদিজাতুল কুবরা রাঃ বললেন, করলেন, দাঁড়ালেন, ওঠলেন, বসলেন।
শেষে একটা “ন” লাগাতে এত কষ্ট কেন? কথার শ্রোতিমাধুর্য বাড়িয়ে মানুষকে খুশি করতে, ভক্তকূল তৈরির এত খাহেশ কেন?
প্রিয় নবিজির ﷺ সম্বোধন কি দুনিয়ার আর দশটা সাধারণ মানুষের মত হতে পারে? কস্মিনকালেও না।
লজ্জা হয় না? ভালবাসা না হয় কম, কিন্তু সম্মান কোথায়, তাজিম কোথায় যা প্রিয় নবিজীর ﷺ পাওনা?
তাফসীরে সাবী তে রয়েছেন
তাফসীরে জালালাইন 302 পৃষ্ঠাতে রয়েছে
حاشية الصاوي —قوله: {لاَّ تَجْعَلُواْ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيْنَكُمْ} أي نداءه بمعنى لا تنادوه باسمه فتقولوا: يا محمد، ولا بكنيته فتقولوا: يا أبا القاسم، بل نادوه وخاطبوه بالتعظيم والتكريم والتوقير بأن تقولوا: يا رسول الله، يا إمام المسلمين، يا رسول رب العالمين، يا خاتم النبيين، وغير ذلك، واستفيد من الآية أنه لا يجوز نداء النبي بغير ما يفيد التعظيم، لا في حياته ولا بعد وفاته، فبهذا يعلم أن من استخف صلى الله عليه وسلم فهو كافر ملعون في الدنيا والآخرة. قوله: (وخفض صوت) أي
{ يٰأَيُّهَا ٱلَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَرْفَعُوۤاْ أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ ٱلنَّبِيِّ وَلاَ تَجْهَرُواْ لَهُ بِٱلْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَن تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنتُمْ لاَ تَشْعُرُونَ }الحجرات: 2] وهذ الآداب كما تكون في حق النبي، تكون في حق حملة شريعته، فينبغي لتلاميذه الأشياخ، أن يفعلوا معهم هذه الآداب ويتخلقوا بها، ليحصل لهم الفتوح والفلاح. ۔۔۔حاشية الصاوي على تفسير الجلالين 1-4 ج3
شهاب الدين أحمد بن محمد الخلوتي/الصاوي, محمد عبد السلام
অর্থ : তোমরা তোমাদের রসূল ﷺ উনাকে তোমাদের মতো ডেকো না। অর্থাৎ তোমরা উনাকে উনার মূল নাম মুবারক-এ ডেকো না। যেমন- কেউ বললো, হে মুহম্মদ! এবং উনার কুনিয়াত (উপনাম) নিয়েও ডেকো না, যেমন কেউ বললো, হে আবুল কাসিম! বরং উনাকে ডাকো বা আহ্বান কর তা’যীম-তাকরীম বা সম্মান-ইজ্জতের সাথে। অতএব, তোমরা এভাবে ডাকবে- ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া নাবিয়াল্লাহ, ইয়া ইমামাল মুরসালীন, ইয়া রসূলা রব্বিল আলামীন, ইয়া খাতামান নাবিইয়ীন ﷺ ও অনুরূপ অন্য বাক্য দ্বারা। এ আয়াত শরীফ-এর এটাই ফায়সালা যে, তা’যীম বা সম্মান প্রকাশ হয় না এমন শব্দ দ্বারা সাইয়্যিদুনা নবী করীম ﷺ উনাকে আহ্বান করা জায়িয নেই। এ ফায়সালা তিনি হায়াত মুবারক-এ থাকা অবস্থায় এবং বিছাল মুবারক-এর পর একই হুকুম। হুযূর পাক ﷺ উনাকে অসম্মানীমূলক শব্দ দ্বারা আহ্বানকারী দুনিয়া ও আখিরাতে কাফির ও মালউন (অভিশপ্ত) হিসেবে স্বীকৃত।

‘তাফসীরে মা’য়ারিফুল কুরআন’-এর ৯৫৫ নম্বর পৃষ্ঠায় উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে, “যখন তোমরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ﷺ উনাকে কোন প্রয়োজনে সম্বোধন কর তখন সাধারণ লোকের ন্যায় উনার নাম মুবারক নিয়ে অর্থাৎ ‘ইয়া মুহাম্মাদ’ বলে সম্বোধন করবে না। কারণ এটা চরম বেযাদবি। বরং সম্মানসূচক উপাধি দ্বারা অর্থাৎ ‘ইয়া রসূলাল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’ এরূপভাবে সম্বোধন করবে। কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ﷺ উনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।”
অর্থাৎ সাধারণ লোককে যেভাবে নাম নিয়ে সম্মোধন করা যায় সেভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ﷺ উনার নাম মুবারক নিয়ে সম্মোধন করা জায়িয নেই। বরং উনাকে লক্বব মুবারক দিয়ে সম্মোধন করতে হবে।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ قَالَ أَنْبَأَنِيْ مُوْسَى بْنُ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ
ﷺ افْتَقَدَ ثَابِتَ بْنَ قَيْسٍ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَا أَعْلَمُ لَكَ عِلْمَهُ فَأَتَاهُ فَوَجَدَهُ جَالِسًا فِيْ بَيْتِهِ مُنَكِّسًا رَأْسَهُ فَقَالَ مَا شَأْنُكَ فَقَالَ شَرٌّ كَانَ يَرْفَعُ صَوْتَهُ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ فَأَتَى الرَّجُلُ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَالَ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ مُوْسَى بْنُ أَنَسٍ فَرَجَعَ الْمَرَّةَ الْآخِرَةَ بِبِشَارَةٍ عَظِيْمَةٍ فَقَالَ اذْهَبْ إِلَيْهِ فَقُلْ لَهُ إِنَّكَ لَسْتَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَلَكِنْ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
বুখারী শরীফ হাদিস নং ৩৬১৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী ﷺ সাবিত ইবনু কায়েস (রাঃ)-কে তাঁর মাজলিসে অনুপস্থিত পেলেন। তখন এক সহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার সম্পর্কে জানি। তিনি গিয়ে দেখেন সাবিত (রাঃ) তাঁর ঘরে অবনত মস্তকে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে সাবিত! কী অবস্থা তোমার? তিনি বললেন, অত্যন্ত খারাপ। তার গলার স্বর নাবী ﷺ-এর গলার স্বর হতে উচ্চ হয়েছিল। কাজেই তার সব নেক আমল নষ্ট হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে নাবী ﷺ-কে জানালেন সাবিত (রাঃ) এসব কথা বলেছে। মূসা ইবনু আনাস (রহ.) বলেন, ঐ সাহাবী এক মহা সুসংবাদ নিয়ে হাযির হলেন যে নাবী ﷺ বলেছেন, তুমি যাও সাবিতকে বল, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত নও বরং তুমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত। (৪৮৪৬كتاب التفسير -4846 (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৫২)
كتاب المناقب
بَاب :{لَا تَرْفَعُوْآ أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ} الْآيَةَ
৬৫/৪৯/১. আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা উঁচু করো না তোমাদের কণ্ঠস্বর নাবীর কণ্ঠস্বরের উপর। (সূরাহ হুজুরাত ৪৯/২)
أولاً: حكم سب النبي ﷺ: دلت الأدلة الكثيرة على أن من سبَّ النبي -ﷺ- فهو كافر في الدنيا والآخرة، وأنه مستحق للقتل أيًا كان دينه، منها: قوله تعالى: { وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [التوبة:61]. ومنها: قوله تعالى فيمن استهزءوا بالنبي -ﷺ- ثم جاءوا يعتذرون بأن هذا حديث الركب يقطعون به الطريق: { قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ . لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ إِنْ نَعْفُ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ } [التوبة:65-66]، والأدلة على ذلك كثيرة استوعبها شيخ الإسلام ابن تيمية في كتابه القيم: “الصارم المسلول على شاتم الرسول”. ثانيًا: حكم التعريض بسب النبي -ﷺ-، ويشمل أمرين: الأول: أن التعريض بسب النبي -ﷺ- كَسبِّه تمامًا، يكفر صاحبه، ويُلعن في الدنيا والآخرة، ويستحق القتل. الثاني: أنه يحرم على المسلم استعمال اللفظ الذي عُرِّض فيه بشتم النبي -صلى الله عليه وسلم- ولو بمعناه الحسن، تعظيمًا لمقام النبي -صلى الله عليه وسلم-. يدل على الأول قوله -تعالى- عن المنافقين: { وَمِنْهُمْ مَنْ يَلْمِزُكَ فِي الصَّدَقَاتِ } [التوبة:58]، فجعل اللمز -وهو: الطعن الخفي- نفاقًا، والسياق في ذكر النفاق الأكبر كما هو ظاهر. ومنه: لعن الله لليهود لما فعلوا ذلك مع رسول الله -ﷺ- كما في قوله تعالى: {مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانْظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَكِنْ لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلا يُؤْمِنُونَ إِلا قَلِيلا} [النساء:46]. وذلك أن اليهود كانوا يقولون للنبي -ﷺ-: { اسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ } لتفهم أنها بمعنى: “اسمع غير مأمور”، فتكون من المبالغة في الأدب، وإنما أرادوا بها -قبحهم الله-: “اسمع لا أسمعك الله”، وكانوا يقولون: “رَاعِنَا” لتفهم أنها من الرعاية، وإنما أرادوا بها -لعنهم الله-: “الرعونة”. فدل هذا على أن هذا النوع من التعريض بالسب ينبغي أن يعلم صاحبه أنه ملعون عند الله إن أراد به السب، وأما في حكم الظاهر فيقال لهم ما قاله سعد بن معاذ -رضي الله عنه- لما فهم مقصود اليهود من هذا الكلام: “عليكم لعنة الله، والذي نفسي بيده يا معشر اليهود لئن سمعتها من أحد منكم يقولها لرسول الله -ﷺ- لأضربن عنقه”، فقالوا: “ألستم تقولونها؟”، فأنزل الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقُولُوا رَاعِنَا} [البقرة:104]، لكيلا يتخذ اليهود ذلك سبيلاً إلى شتم رسول الله -ﷺ-. “ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية في “الصارم المسلول” نقلاً عن بعض أهل التفسير”.
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا
আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি স্বাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে।
لِّتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
যাতে তোমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে ( আমার নবিকে) সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর। (সুরা ফাতহ, ৪৮ঃ৮-৯)
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُؤْذُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا ۔আল-আহযাব 33:57
নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে লানত করেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক আযাব।
আল-আহযাব 33:58
وَٱلَّذِينَ يُؤْذُونَ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ بِغَيْرِ مَا ٱكْتَسَبُوا۟ فَقَدِ ٱحْتَمَلُوا۟ بُهْتَٰنًا وَإِثْمًا مُّبِينًا
আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোন অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয় তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ।
ও গোস্তাখো! অউর কুচ না সাহিহ কালমা পাড়হানেকা ভি ইহসান গেয়া? (ইমাম আলা হজরত রাহঃ)
হে বেয়াদবরা! আর কিছু নাই হোক! কালিমা যে পড়িয়েছেন তার কৃতজ্ঞতাও কী আদায় করবে না তোমরা?
সকল আমল, সওয়াব বরবাদ হয়ে যাবে এরকম বেয়াদবির কারনে।
ঠিক একইভাবে প্রিয় নবিজির ﷺ সাথে যারা সংশ্লিষ্ট, অন্যান্য নবি রাসূলগণের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট সম্মানিত তাদেরকে সম্বোধন করতেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে। অন্তরে ভালবাসা থাকতে হবে সেইসাথে মুখের সম্বোধনেও আদব -সম্মান থাকতে হবে।
আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করেন। আমিন।
নবীজির মর্যাদা ۔কোরআনে নবীজির মর্যাদা সম্বলিত কিছু আয়াত
وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَه يُدْخِلْهُ جَنَّتٍ
১। অর্থাৎ- “যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অনুগত হবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (সুরা নিসা-১৩)
وَمَنْ يَّعْصِ اللهَ وَرَسُوْلَه وَيَتَعَدَّ حُدُوْدَه يُدْخِلْهُ نَارًا
২। অর্থাৎ- “যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।” (সুরা নিসা-১৪)
مَنْ يُّطِعِ الرَّسُوْلَ فَقَدْ اَطَاعَ اللهَ
৩। অর্থাৎ- “যে রাসুলের আনুগত্য করে, সে মূলতঃ আল্লাহরই আনুগত্য করলো।” (সুরা নিসা-৮০)
قُلِ الْاَنْفَالُ لِلهِ وَالرَّسُوْلِ
৪। অর্থাৎ- “হে হাবীব! বলুন, যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল।” (সুরা আনফাল-১)
وَلَا يُحَرِّمُوْنَ مَا حَرَّمَ اللهُ وَرَسُوْلُه
৫। অর্থাৎ- “যারা হারাম মনে করেনা ঐ জিনিসকে- যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল হারাম ঘোষণা করেছেন।” (সুরা তাওবা-২৯)
اَغْنَهُمُ اللهُ وَرَسُوْلُه مِنْ فَضْلِه
৬। অর্থাৎ- “আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুল আপন অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী বানিয়েছেন।” (সুরা তাওবা-৭৪)
اَلنَّبِيُّ أَوْلَي بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ
৭। অর্থাৎ- “নবী মু’মিনদের জন্য প্রাণের চেয়েও বেশি নিকটে।” (সুরা আল আহযাব-৬)
يَانِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدِ مِّنَ النِّسَاءِ
৮। অর্থাৎ- “হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্যান্য স্ত্রীলোকের ন্যায় নও।” (সুরা আল আহযাব-৩২)
وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيْهِمْ
৯। অর্থাৎ- “আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে শাস্তি দিবেন না, যতক্ষণ আপনি তাদের মধ্যে মওজুদ থাকবেন।” (সুরা আনফাল-৩৩)
فَلَمْ تَقْتُلُوْهُمْ وَلَكِنَّ اللهَ قَتَلَهُمْ وَمَا رَمَيْتَ اِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللهَ رَمَي
১০। অর্থাৎ- “অতঃপর আপনি তাদেরকে হত্যা করেননি বরং আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে হত্যা করেছেন এবং হে মাহবুব! আপনি যে মাটি নিক্ষেপ করেছিলেন, তা আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহ তায়ালাই নিক্ষেপ করেছিলেন” (সুরা আনফাল-৩৩)
اِنَّ الَّذِيْنَ يُبَيِعُوْنَكَ اِنَّمَا يُبَيِعُوْنَ اللهَ يَدُ اللهِ فَوْقَ أَيْدِهِمْ
১১। অর্থাৎ- “যারা আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছে, তারা তো আল্লাহরই হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছে। তাদের হাতের উপর আল্লাহর হাত রয়েছে।” (সুরা আনফাল-৩৩)
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَّلَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَي اللهُ وَرَسُوْلُه اَمْرًا اَنْ يَّكُوْنَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ اَمْرِهِمْ
১২। অর্থাৎ- “কোন বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল নির্দেশ দেয়ার পর ঐ বিষয়ে কোন ঈমানদার পুরুষ এবং কোন ঈমানদার নারীর ভিন্নমত পোষণ করার অধিকার নেই।” (সুরা আল আহযান-৩৬)

তোমারি গুণ গাইতে পারি
সাধ্য আমার নাই হে রাসুল,
এই গোলামে যাচি সদা
তব দয়া হয়ে ব্যাকুল।

وخاطبوه بالتعظيم والتكريم والتوقير

لاَّ تَجْعَلُواْ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً قَدْ يَعْلَمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمْ لِوَاذاً فَلْيَحْذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ٦٣ أَلاۤ إِنَّ للَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلأَرْضِ قَدْ يَعْلَمُ مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ وَيَوْمَ يُرْجَعُونَ إِلَيْهِ فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُواْ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمُ ٦٤ -النور। حاشية الصاوي —قوله: {لاَّ تَجْعَلُواْ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيْنَكُمْ} أي نداءه بمعنى لا تنادوه باسمه فتقولوا: يا محمد، ولا بكنيته فتقولوا: يا أبا القاسم، بل نادوه وخاطبوه بالتعظيم والتكريم والتوقير بأن تقولوا: يا رسول الله، يا إمام المسلمين، يا رسول رب العالمين، يا خاتم النبيين، وغير ذلك، واستفيد من الآية أنه لا يجوز نداء النبي بغير ما يفيد التعظيم، لا في حياته ولا بعد وفاته، فبهذا يعلم أن من استخف بجنابه صلى الله عليه وسلم فهو كافر ملعون في الدنيا والآخرة. قوله: (وخفض صوت) أي
{ يٰأَيُّهَا ٱلَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَرْفَعُوۤاْ أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ ٱلنَّبِيِّ وَلاَ تَجْهَرُواْ لَهُ بِٱلْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَن تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنتُمْ لاَ تَشْعُرُونَ }الحجرات: 2] وهذ الآداب كما تكون في حق النبي، تكون في حق حملة شريعته، فينبغي لتلاميذه الأشياخ، أن يفعلوا معهم هذه الآداب ويتخلقوا بها، ليحصل لهم الفتوح والفلاح. قوله: {ٱلَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ} أي يذهبون واحداً بعد واحد، لأن المنافقين كانوا يجتمعون مع الصحابة إذا رقي النبي المنبر، فإذا كثر الناس نظروا يميناً وشمالاً، ويخرجون واحداً بعد واحد، إلى أن يذهبوا جميعاً. قوله: {لِوَاذاً} حال من الواو في {يَتَسَلَّلُونَ} من التلاوذ، وهو الاستتار، بأن يغمز بضعهم بعضاً بالخروج.قوله: {فَلْيَحْذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ} الخ، مرتب على ما قبله، وضمن {يُخَالِفُونَ} معنى يعرضون، فعداه بعن. قوله: {أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ} {أَن} وما دخلت عليه في تأويل مصدر مفعول يحذر، أي إصابة فتنة. قوله: {أَوْ يُصِيبَهُمْ} {أَوْ} مانعة خلو تجوز الجمع. قوله: {أَلاۤ إِنَّ للَّهِ} الخ كالدليل لما قبله. قوله: {قَدْ يَعْلَمُ مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ} {قَدْ} للتحقيق، والمعنى أن الله يعلم الأمر الذي في قلوب المنافقين، من المخالفة والإعراض عن أوامر اللهتعالى. قوله: {وَيَوْمَ يُرْجَعُونَ إِلَيْهِ} معطوف على {مَآ} أي يردون إليه، وهو يوم البعث. قوله: {فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُواْ} أي يخبرهم بأعمالهم، فيثيبهم على الحسنات، ويعاقبهم على السيئات.

Leave a Reply

Close Menu