সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোজা রাখার ফজিলত:

সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোজা রাখার ফজিলত:

সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোজা রাখার ফজিলত:

★★১.পবিত্র হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে :

ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﻗَﺘَﺪَﺓَ ﺍﻻَﻧْﺼﺎَﺭِﻯ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻪُ ﺍَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺱﺀﻝ ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻻِﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻗَﻞَ ﺫَﺍﻙَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕُ ﻓِﻴْﻪِ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﺍَﻭْﺍُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻓِﻴْﻪِ –

অর্থাৎ হযরত আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একজন সাহাবী হুজুর পাক (ﷺ) এঁর খেদমতে আরজ করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ,ইয়া হাবিবাল্লাহ আমার মাতা পিতা আঁপনার নূরের পাক কদমে কুরবান হোক।আঁপনি প্রতি সোমবার রোজা পালন করেন কেন ? জবাবে সরকারে দুজাহান নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক (ﷺ) বলেন,“এই দিনে আঁমার বেলাদত শরীফ হয়েছে, এই দিনে আঁমি প্রেরিত হয়েছি এবং পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এই দিনেই আঁমার উপর নাজিল হয়েছে।”

*****দলিল*****
*(ক.) সহীহ মুসলিম শরীফ ২য় খন্ড, ৮১৯ পৃষ্ঠা,
*(খ.) বায়হাকী: আহসানুল কুবরা,৪র্থ খন্ড,২৮৬ পৃ:
*(গ.) মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল,৫ম খন্ড,২৯৭ পৃ:
*(ঘ.) মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,৪র্থ খন্ড, ২৯৬ পৃ:
*(ঙ.) হিলিয়াতুল আউলিয়া,৯ম খন্ড, ৫২ পৃ:
*(চ.) সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং-২১১৭
*(ছ.) মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদিস নং-২৯২৬,
*(জ.) সুনানে আবী দাউদ,হাদীস নং-২৪২৮

★★২.হাদিস শরীফে আরও উল্লেখ হয়েছে:

عَنْ اَبِىْ قَتَادَةَ الاَنْصَارِىِّ رضى الله عنه قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَقْبَلَ عَلَيْهِ عُمَرُ عليه السلام فَقَالَ يَا نَبِىَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَوْمُ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ؟ قَالَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمٌ اَمُوْتُ فِيهِ.

অর্থ: হযরত আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ (ﷺ) উঁনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে ছিলাম,এমন সময় সেখানে হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন এবং আরজ করলেন, হে মহান আল্লাহ তায়ালার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সোমবার রোজা রাখা কেমন? জাওয়াবে তিঁনি ইরশাদ মুবারক করলেন: আঁমি এ দিন মুবারকে দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছি এবং এ দিন মুবারকে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করব।সুবহানআল্লাহ!

[সহীহ ইবনে খুযাইমাহ ৩/২৯৮, কিতাবুছ ছিয়াম : হাদিস নং ২১১৭]

★★৩.হাদিস শরীফে আরও ইরশাদ করা হয়েছে:

عَنْأَبِىقَتَادَةَالأَنْصَارِىِّرضىاللهعنهأَنَّرَسُولَاللَّهِصلىاللهعليهوسلم… وَسُئِلَعَنْصَوْمِيَوْمِالاِثْنَيْنِقَالَذَاكَيَوْمٌوُلِدْتُفِيهِوَيَوْمٌبُعِثْتُأَوْأُنْزِلَعَلَىَّفِيهِ.

অর্থ: হযরত আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক (ﷺ) উঁনাকে ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার উনার দিনে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিঁনি জওয়াবে বলেছিলেন: “ইহা এমন একখানা দিন যে দিনে আঁমি দুনিয়ায় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি এবং এ দিনে আনুষ্ঠানিক ভাবে নবুওয়াত প্রকাশ করা হয়েছে তথা এ দিনে আঁমার উপর পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল শুরু হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

[সহিহ মুসলিম শরীফ- পরিচ্ছেদ: ইস্তিহবাবু ছিয়ামি ছালাছাতি আইয়ামিন মিন্ কুল্লি শাহরিন ওয়া ছাওমি ইয়াওমি আরাফাতা ওয়া আশূরা ওয়াল ইছনাঈন ওয়াল খমীছ- হাদীস নম্বর ১১৬১]

★★৪.নবী করীম রাউফুর রাহীম (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছেন:

أُمِّ سَلَمَةَ فَسَأَلْتُهَا عَنِ الصِّيَامِ فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَأْمُرُنِى أَنْ أَصُومَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلُهَا الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ

অর্থ: হযরত উম্মে সালমা আলাইহিস সালাম বর্ননা করেন,হুজুর পাক (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখতে যার প্রথম দিন সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার হয়।

****দলিল****
*(ক.) আবু দাউদ শরীফ,২৪৫৪
*(খ.) শুয়াবুল ঈমান,৩৫৭১
*(গ.) মুসনাদে আবী ইয়ালা,৬৯৮২
*(ঘ.) নাসাঈ শরীফ
*(ঙ.) মিশকাত শরীফ,কিতাবুছ ছাওম, হাদিস নং ১৯৬২

★★৫.সহিহ হাদিস শরীফে সোমবার রোজা রাখার বিষয়ে সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের আমল দেখা যায়। হাদিস শরীফের বিখ্যাত কিতাব “ইবনে আবী শায়বায়” একটা বাব আছে যার নাম:

– مَا ذُكِرَ فِي صَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ.

এখানে অনেক হাদিস শরীফ বর্ণিত আছে, যেখানে দেখা যায় হযরত সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগন সোমবার রোজা রাখতেন।

حَدَّثَنَا عُثْمَانَ بْنُ مَطَر ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ ، عَنْ أَبِي عُقْبَةَ ، قَالَ : كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَصُومُ الاِثْنَيْن وَالْخَمِيسَ.

অর্থ: হযরত আবু উকবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি ইয়ামুল ইছনাইন (সোমবার) ও ইয়াওমুল খমীছ রোজা রাখতেন।
[ইবনে আবী শায়বা,৯৩২১]

حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرِِ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ ؛ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَانَ يَصُومُ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ.

অর্থ: হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, হযরত উমর আব্দুল আযীয রহতুল্লাহি আলাইহি তিনি সোমবার ও ইয়াওমুল খমীছ রোজা রাখতেন।
[ইবনে আবী শায়বা,৯৩২৪]

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ ، عَنْ قَيْسٍ ، عَنْ عَاصِمٍ ، عَنْ زِرٍّ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ ؛ أَنَّهُ كَانَ يَصُومُ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি সোমবার ও ইয়াওমুল খমীছ রোজা রাখতেন।
[ইবনে আবী শায়বা,৯৩২৮]

حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ ، عَنْ سَعِيدٍ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ خِلاَسٍ ؛ أَنَّ عَلِيًّا كَانَ يَصُومُ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ.

নিশ্চয়ই হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিঁনি সোমবার ও ইয়াওমুল খমীছ রোজা রাখতেন।
[ইবনে আবী শায়বা ৯৩৩০]

★★৬.আবার হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে:

عن ربيعة بن الغاز أنه سأل عائشة عن صيام رسول الله صلى الله عليه و سلم فقالت كان يتحرى صيام الاثنين والخميس

হযরত রাবীয়া বিন গাজ (রহঃ) হযরত আয়শা (রাঃ)এঁর কাছে রাসূল (ﷺ) এঁর রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিঁনি জবাবে বলেনঃ রাসূল (ﷺ) সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোযা রাখার ব্যাপারে খুবই মনোযোগী ছিলেন।

*****দলিল*****
*(ক.) সুনানে ইবনে মাজাহ,হাদিস নং-১৭৩৯
*(খ.) সহিহ ইবনে হিব্বান,হাদিস নং-৩৬৪৩
*(গ.) সুনানে নাসায়ী কুবরা,হাদিস নং-২৪৯৬
*(ঘ.) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুয়া,হাদিস নং- ১৬৬৫
*(ঙ.) মুসনাদুশ শামীন,হাদিস নং-৪৩৯ *(চ.) আলমুজামুল আওসাত,হাদিস নং-৩১৫৪

★★৭.হাদিস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে:

عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال تعرض الأعمال يوم الإثنين والخميس فأحب أن يعرض عملي وأنا صائم

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল উপস্থাপন করা হয় [আল্লাহর কাছে]।আর আঁমার আমল উপস্থাপন করার সময় রোযারত থাকাকে পছন্দ করছি।
****দলিল****
*(ক.) সুনানে তিরমিজী,হাদিস নং-৭৪৭
*(খ.) সুনানে নাসায়ী কুবরা,হাদিস নং-২৬৬৭
*(গ.) মুসনাদে আহমাদ,হাদিস নং-২১৭৫৩
*(ঘ.) মুসনাদুল বাজ্জার,হাদিস নং-২৬১৭
*(ঙ.) শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং-৩৫৪১
*(চ.) কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪১৯১

★★৮. প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন নফল রোযা রাখা সুন্নত ও মুস্তাহাব।কারণ,তা ছিল মহানবী (ﷺ) এঁর আমল। আর এই দুই দিন আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয়। হযরত মা আয়েশা (রা:) বলেন, “আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখাকে প্রাধান্য দিতেন।”

[তিরমিযী-সহিহ,আলবানী-সহিহ তারগীবঃ ১০২৭]

★★৯.সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুইদিন আল্লাহ তাআ’লা তাঁর রহমতের উসীলায় মুসলমানদের গুনাহ মাফ করেন। তবে এমন দুইজন মুসলমান,যারা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এই গুনাহ থেকে তাওবা করে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করবে,তারা এই ফযীলত থেকে বঞ্চিত থাকবে।হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন,“নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখতেন। একদিন তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলো, “হে আল্লাহর রাসুল! আঁপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখেন কেন?” তিঁনি বললেন, “আল্লাহ তাআ’লা সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন প্রত্যেক মুসলমানের গুনাহ ক্ষমা করেন।কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী সম্পর্কে (আল্লাহ বলেন), “তাদেরকে ছেড়ে দাও,যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে।”

[ ইবনে মাজাহঃ ১৭৪০। হাদিসটি সহিহ, নাসির উদ্দীন আলবানী,সহিহ আত-তারগীবঃ ১০২৮]

★★১০. সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুইদিন ‘কেরামান কাতেবীন’ অর্থাৎ, সম্মানিত আমল লেখক ফেরেশতারা আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করে থাকেন। এই হাদিসটিও হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (ﷺ) বলেছেন,“সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয়। তাই আঁমি পছন্দ করি যে,রোযা থাকা অবস্থায় যেন আঁমার আমলনামা (আল্লাহর) কাছে পেশ করা হয়।”

[তিরমিযীঃ ৭৪৭। হাদিসটি সহিহ,আলবানী- সহিহ আত-তারগীবঃ ১০২৭]

★★১১.হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত।রাসূল (ﷺ) বলেন “প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং শিরককারী ব্যতীত প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। তবে যে ভাইয়ের সাথে হিংসা জিইয়ে রেখেছে বা বলবৎ রেখেছে,ঐ ব্যক্তি ক্ষমা পায় না আপোষ না করা পর্যন্ত।”
[মুসলিম, মিশকাত, হাঃ/৫০২৯]

সর্বশেষ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াবি হায়াতে জিন্দেগী থেকে পর্দা গ্রহন করেছিলেন সোমবারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারে ইন্তেকাল (দুনিয়াবি হায়াতে জিন্দেগী থেকে পর্দা গ্রহন) করার কারণে সোমবার ফযীলতপূর্ণ হয় নি। বরং সোমবারের বিশেষ মর্যাদা হচ্ছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারে ধরাধামে শুভ আগমন করেছিলেন, এই দিন তাঁকে নবুওয়াত দেওয়া হয়েছিলো বা কুরআন নাযিল করা হয়েছিলো, এইদিনে বান্দার আমলনামা আল্লাহ তাআ’লার কাছে পেশ করা হয়, আল্লাহ তা’লা নিজ রহমতে সোমবার দিন মুসলিম বান্দাকে ক্ষমা করেন, এই কারণে। তবে মুসলিম বান্দা হিসেবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত হিসেবে আমাদের জানা থাকা উচিত যে,“অধিকাংশ আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য মত হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগারো (১১) হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ, রোজ সোমবার ইন্তেকাল (দুনিয়াবি হায়াতে জিন্দেগী থেকে পর্দা গ্রহন) করেছিলেন।”

সুহাইলী প্রণীত “আর-রওদুল উনফ” (৪/৪৩৯-৪৪০), ইমাম ইবনে কাসীর (রহ:) এর “আস-সিরাহ আন-নববীয়্যাহ” (৪/৫০৯), ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহি’মাহুল্লাহর “ফাতহুল বারী” (৮/১৩০)
ওফাত শরীফ প্রসংগটা যেহেতু এসেছে।আসুন এব্যাপারে একটু ধারনা লাভ করা যাক।অনেকে বলেন সোমবার দিন তো শুধু রাসূলের শুভ আগমনও হয়েছে, আবার ইন্তেকালও হয়েছে।আসুন এবার একটু হাদিস শরীফ থেকে দলিল জানা যাক:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আঁমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর (এই কথা ৩ বার বলেছেন)।আঁমার ওফাত ও তোমাদের জন্য কল্যাণকর (এই কথা ৩ বার বলেছেন)।অতঃপর লোকজন নিরব হয়ে গেল! হযরত ওমর (রাঃ) বললেন “আমার পিতা মাতা আঁপনার উপর কোরবানী হউক (তাজিমার্থে)”।তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন এটা কিভাবে সম্ভব ? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “আঁমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” কারন “আঁমি তোমাদের সাথে কথা বলি এবং তোমরা আঁমার সাথে কথা বল।” “আঁমার উপর (দয়াময় রব আসমান থেকে) ওহী নাযিল করেন।আঁমি তোমাদেরকে বলে (সতর্ক করে) দেই তোমাদের জন্য কোনটা জায়েজ (উচিত) আর কোনটা নাজায়েজ(অনুচিত)।”

“আর আঁমার ওফাত ও তোমাদের জন্য কল্যাণকর কারণ প্রতি বৃহস্পতিবারে তোমাদের কর্ম গুলো আঁমার নিকট উপস্থিত করা হবে।তোমাদের কোন ভাল কাজ দেখলে তার জন্য আল্লাহর কাছে তোমাদের প্রশংসা করব আর (এর জন্য প্রভুর) কৃতজ্ঞতা স্বীকার করব।তোমাদের কোন পাপ দেখলে তার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফেরাত কামনা করব ।”

*****Reference****
*1. From: Bazzar
Book: Al Musnad
Volume: 5, Page: 308
Hadith number: 1925

*2. From : ibn Hajar Asqalani
Book: Taqrib wa ’l-Tahdhib
Volume : 1/478

*3. From : ibn Hibban
Book : Kitab al-Majruhin, Volume : 2/160.

*4.Book: Kitab al-Hajj
Page : (#179).

*5. From : al-Albani,Page : 37
Book : Silsilah Ahadith al-Da ‘ ifah,Hadith : (#979).

*6. From: Daylami
Book: Musnad Al Firdoos
Volume: 1,Page: 183
Hadith number: 686

*7. From: Zahabi
Book: Sayyir Al A’laam An Nubala
Volume: 17,Page: 106

*8. From: Hakeem Tirmidhi
Book: Nawadir Al Usul
Volume: 4,Page: 176

*9. From: Zahabi
Book: Mizan Al Itidal
Volume: 2,Page: 439

*10. From: Ibn e Hajr ‘Asqalani
Book: Lisan Al Mizan
Volume: 2,Page: 395
ID: 1620

*11. From: Imam Jalal Uddin Suyuti
Book: Al Hawi Lil Fatawa
Volume: 2,Page: 3

রাসূল (ﷺ) এঁর ওফাত শরীফ ও আমাদের জন্য নেয়ামত স্বরূপ। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রঃ) রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন-

ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ – ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ – ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﻟِﻠَّﻪِ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺔً ﺳَﻴَّﺎﺣِﻴﻦَ، ﻳُﺒَﻠِّﻐُﻮﻥَ ﻋَﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡَ .” ﻗَﺎﻝَ : ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ” ﺣَﻴَﺎﺗِﻲ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَﻜَﻢْ ﺗُﺤْﺪِﺛُﻮﻥَ ﻭَﻳُﺤَﺪَﺙُ ﻟَﻜَﻢْ، ﻭَﻭَﻓَﺎﺗِﻲ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَﻜَﻢْ ﺗُﻌْﺮَﺽُ ﻋَﻠَﻲَّ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟُﻜُﻢْ، ﻓَﻤَﺎ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﻣِﻦْ ﺧَﻴْﺮٍ ﺣَﻤَﺪَﺕُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ، ﻭَﻣَﺎ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﻣِﻦْ ﺷَﺮٍّ ﺍﺳْﺘَﻐْﻔَﺮْﺕُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻜَﻢ –

‘‘আঁমার হায়াত তোমাদের জন্য উত্তম। কেননা আঁমি তোমাদের সাথে কথা বলি তোমরা ও আঁমার সাথে কথা বলতে পারছ।এমনকি আঁমার ওফাত ও তোমাদের জন্য উত্তম নেয়ামত। কেননা তোমাদের আমল আঁমার নিকট পেশ করা হয় এবং আঁমি তা দেখি।যদি তোমাদের কোন ভাল আমল দেখি তাহলে আঁমি তোমাদের ভাল আমল দেখে আল্লাহর নিকট প্রশংসা করি,আর তোমাদের মন্দ কাজ দেখলে আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য গুনাহ মাফের জন্য (তোমাদের পক্ষ হয়ে) ক্ষমা প্রার্থনা করি।’’

উক্ত হাদিস প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে হাযার হাইসামী (রঃ) বলেন:

ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒَﺰَّﺍﺭُ، ﻭَﺭِﺟَﺎﻟُﻪُ ﺭِﺟَﺎﻝُ ﺍﻟﺼَّﺤِﻴﺢِ –

-‘‘উক্ত হাদীসের সমস্ত রাবী বুখারীর সহিহ গ্রন্থের ন্যায়।’’ তাই হাদিসটি সহিহ।

*****দলিল******
*১.বাজ্জার,আল-মুসনাদ,৫/৩০৮পৃ.হাদিস,১৯২৫
*২.সুয়ূতি,জামিউস সগীর,১/২৮২পৃ.হাদিস,৩৭৭০-৭১
*৩.আল্লামা ইবনে কাছির ,বেদায়া ওয়ান নিহায়া,৪/২৫৭পৃ.
*৪. আল্লামা মুত্তাকী হিন্দী,কানযুল উম্মাল,১১/৪০৭পৃ. হাদিস,৩১৯০৩
*৫.ইমাম ইবনে জওজী,আল-ওফা বি আহওয়ালি মোস্তফা,২/৮০৯-৮১০পৃ.
*৬. আল্লামা ইবনে কাছির,সিরাতে নববিয়্যাহ,৪/৪৫পৃ.

ইমাম ইবনুল হাজ্জ ও ইমাম কুসতালানী (রহঃ) বলেন:

وَقَدْ قَالَ عُلَمَاءُ نَالَا فَرْقَ بَيْنَ مَوْتِه وَحَيو تِه عَلَيْهِ السَّلَامُ فِىْ مُشَاهِدَ تِه لِاُمَّتِهِ وَمَعرِ فَتِه بِاَحْوَ الِهِمْ وَنِيَّا تِهِمْ وَعَزَائِمِهِمْ وَخَوَاطِرِ هِمْ وَذلِكَ جَلِىٌّ عِنْدَهُ لَاخَفَاءَبِه

আমাদের সু-বিখ্যাত উলামায়ে কিরাম বলেন যে,হুযুর আলাইহিস সালামের জীবন ও ওফাতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।তিঁনি নিঁজ উম্মতকে দেখেন,তাদের অবস্থা,নিয়ত,ইচ্ছা ও মনের কথা ইত্যাদি জানেন। এগুলো তাঁর কাছে সম্পূর্ণরূপে সুস্পষ্ট। কোনরূপ অস্পষ্টতা ও দুর্বোধ্যতার অবকাশ নেই এখানে।

*****দলিল******
*১. ইমাম ইবনুল হাজ্জ مدخل গ্রন্থে
*২. ইমাম কুসতালানী (রঃ) مواهب (মাওয়াহিব) গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৩৮৭ পৃষ্ঠায় ২য় পরিচ্ছেদে زيارة قبره شريف শীর্ষক বর্ণনা।

Leave a Reply

Close Menu