হযরত  ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মোহর বর্তমান বাংলাদেশী টাকায় কত টাকা?

হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মোহর বর্তমান বাংলাদেশী টাকায় কত টাকা?

হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মোহর বর্তমান বাংলাদেশী টাকায় কত টাকা?
জবাব: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মেয়ে ফাতেমা রা.-এর মহর ছিল পাঁচশত দেরহাম। যেমন, মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম রহ. বর্ণনা করেন,
كان صداق بنات رسول اللهﷺ ونساءه خمس مائة درهم ثِنْتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً و نصف

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মেয়ে ও স্ত্রীগণের মহর ছিল পাঁচশত দেরহাম অর্থাৎ সাড়ে বার উকিয়া। ( তাবাকাতে ইবনে সাদ ৮/২২)
ইমাম নাববী রাহ. মাজমু’-গ্রন্থে বলেন,
والمستحب ألا يزيد على خمسمائة درهم، وهو صداق أزواج النبي ﷺ وبناته
মহর পাঁচশত দেরহামের বেশি না হওয়া মুস্তাহাব। এটা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর স্ত্রীদের ও কন্যাদের মহর ছিল।
এবার আসুন আমরা বর্তমান বাজারে ৫০০ দিরহাম এর মূল্য কত আসে তা জেনে নেই।
৫০০ দিরহাম। দিরহামের মূল উপকরন হলো রূপা (চান্দি রূপা)।
১ দিরহাম = ২.৯৭৫ গ্রাম
৫০০ দিরহাম = ৫০০দ্ধ২.৯৭৫=১৪৮৭.৫০ গ্রাম। (৫০০ দিরহাম অর্থাৎ ১৪৮৭.৫০ গ্রাম রূপার সমপরিমান)
১১.৩৩৩ গ্রাম = ১ ভড়ি।
১৪৮৭.৫০ গ্রামকে ভড়িতে পরিনত করতে হলে, ১৪৮৭.৫০স্ট১১.৩৩৩ = ১৩১.২৫৩ ভড়ি।
বর্তমান বাজার মূল্যে পরিণত করতে হলে আমাকে অবশ্যই আজকের বাজারে চান্দিরূপার ভড়ির মূল্য কত তা জেনে নিতে হবে।
ধরা যাক,
বর্তমানে ৯০০টাকা ১ ভড়ি চান্দি রূপার মূল্য। (কম বা বেশি হতে পারে)। যে দিন বিয়ে বা যে দিন কাবিন করা হবে, সে দিনের রূপার দাম কোন স্বর্নকারের কাছ থেকে জেনে নিয়ে তারপর দেন মোহরের টাকার পরিমান নির্ধারণ করতে হবে। তাহলে আমরা ৯০০ টাকা আজকের বাজারের মূল্য ধরে হিসাব করি।
১৩১.২৫৩দ্ধ ৯০০= ১,১৮,১২৭.৭টাকা। (এক লক্ষ আঠার হাজার একশত সাতাশ টাকা ৭০ পয়সা)
তাহলে কী দাঁড়ালো বিষয়টি অর্থাৎ বর্তমানে প্রায় ১,২০,০০০/-( একলক্ষ বিশহাজার টাকা)।

বর্তমান যুগে প্রচলিত পরিমাণ অনুযায়ী. এর পরিমাণ ১৩১ তোলা ৩ মাশা সমান বলে উল্লেখ করেছেন। যা প্রচলিত গ্রামের ওজন অনুসারে ১ কিলো ৫৩০ গ্রাম ৯০০ মিলিগ্রামের সমান হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ১২ গ্রামের তোলা প্রচলিত নয়; বরং ১০ গ্রামের তোলা হিসাবে সোনারূপা বেচাকেনা হয়। সে হিসাবে বর্তমানে মাহর ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার হবে প্রায় ১৫৪ তোলা রূপা।
যেহেতু রূপার মূল্য ওঠানামা করে তাই বাংলাদেশী টাকায় বর্তমান বাজারমূল্য জুয়েলারী দোকান থেকে জেনে নিতে হবে।
محمد بن يعقوب، عن محمد بن يحيى، عن أحمد بن محمد بن عيسى، عن علي بن الحكم، عن معاوية بن وهب قال: سمعت أبا عبدالله (عليه السلام) يقول: ساق رسول الله (صلى الله عليه وآله) (1) اثنتي عشرة أوقية ونشا، والاوقية أربعون درهما، والنش نصف الاوقية عشرون درهما وكان ذلك خمسمائة درهم، قلت: بوزننا؟ قال: نعم.
وعنه، عن (أحمد، عن ابن أبي نصر) (1)، عن الحسين بن خالد، وعن علي بن إبراهيم، عن أبيه، عن عمرو بن عثمان، عن رجل، عن الحسين بن خالد، قال: سألت أبا الحسن (عليه السلام) عن مهر السنة، كيف صار خمسمائة؟ فقال: إن الله تبارك وتعالى أوجب على نفسه أن لا يكبره مؤمن مائة تكبيرة، ويسبحه مائة تسبيحة ويحمده مائة تحميدة، ويهلله مائة تهليلة، ويصلي على محمد وآله مائة مرة، ثم يقول: «اللهم زوجني من الحور العين» إلا زوجه الله حوراء عيناء (2)، وجعل ذلك مهرها، ثم أوحى الله إلى نبيه (صلى الله عليه وآله) أن سن مهور المؤمنات خمسمائة درهم، ففعل ذلك رسول الله (صلى الله عليه وآله)، وأيما مؤمن خطب إلى أخيه حرمته (فبذل له) (3) خمسمائة درهم فلم يزوجه فقد عقه، واستحق من الله عزّ وجلّ أن لا يزوجه حوراء.
ورواه الشيخ بإسناده عن محمد بن يعقوب (4).
ورواه الصدوق مرسلا (5).
ورواه في (عيون الاخبار) وفي (العلل) عن محمد بن علي ماجيلويه، عن علي بن إبراهيم، عن أبيه، عن علي بن معبد، عن الحسين بن خالد، نحوه إلا أنه ترك في الكتابين قوله: وأيما مؤمن، إلى آخره (6).
ورواه أيضا عن الحسين بن أحمد بن إدريس، عن أبيه، عن أحمد بن محمد بن عيسى، عن أحمد بن محمد بن أبي نصر، نحوه، إلى آخره ولم يترك منه شيئا (7).
ورواه البرقي في (المحاسن) عن محمد بن علي، عن محمد بن أسلم، عن الحسين بن خالد، مثله، وترك تلك الزيادة (8).
المصادر
الكافي 5: 376 | 7، أورد صدره في الحديث 1 من الباب 34 من أبواب الدعاء.
الهوامش
1- في المصدر: محمد بن يحيى عن أحمد بن محمد بن أبي نصر.
2- في المصدر: عين.
3- في المصدر: فقال.
4- التهذيب 7: 356 | 1451.
5- الفقيه 3: 252 | 1201.
6- عيون أخبار الرضا (عليه السلام) 2: 84 | 25 وعلل الشرائع: 499 | 1.
7- علل الشرائع: 499 | 2.
8- المحاسن: 313 | 30.

السنة: تخفيف الصداق وأن لا يزيد على نساء النبي ﷺ وبناته: فقد روت عائشة رضي الله عنها عن النبي ﷺ أنه قال: [ إن أعظم النساء بركة أيسرهن مؤونة ] وعن ابن عباس عن النبي ﷺ قال: [ خيرهن أيسرهن صداقا ]

وعن الحسن البصري قال: [ قال ] رسول الله ﷺ: [ إلزموا النساء الرجال ولا تغالوا في المهور ] وخطب عمر بن الخطاب الناس فقال: ألا لا تغالوا في مهور النساء فإنها لو كانت مكرمة في الدنيا أو تقوى عند الله: كان أولاكم النبي ﷺ ما أصدق امرأة من نسائه ولا أصدقت امرأة من بناته أكثر من اثنتي عشرة أوقية قال الترمذي: حديث صحيح

بَاب كَمْ كَانَتْ مُهُورُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَنَاتِهِ

أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَمْ كَانَ صَدَاقُ أَزْوَاجِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ صَدَاقُهُ لِأَزْوَاجِهِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا وَقَالَتْ أَتَدْرِي مَا النَّشُّ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَتْ نِصْفُ أُوقِيَّةٍ فَهَذَا صَدَاقُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَزْوَاجِهِ

জামে তিরমিজি হাদিস নং২২৩৮. আবূ সালামা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের মোহরানা কেমন ছিলো? তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রীদের মোহরানার পরিমাণ ছিল বারো উকিয়া এবং এক ‘নাশ’। আবার তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘নাশ’ কী তা তুমি জানো? তিনি বলেন, আমি বললাম, না। তখন তিনি বললেন, তা হল অর্ধ –উকিয়া। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের জন্য এ মোহরানাই ধার্য্য করেছিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ হাসান। তাখরীজ: শাফিঈ, আল মুসনাদ পৃ: ২৪৬; তার সূত্রে আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/১৬১; সহীহ সনদে। আহমাদ ৬/৯৩-৯৪; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৬; নাসাঈ, নিকাহ ৬/১১৬-১১৭; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১০৫; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৮৬; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৮/১১৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ ح و حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي الْعَجْفَاءِ السُّلَمِيِّ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لَا تُغَالُوا صَدَاقَ النِّسَاءِ فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا أَوْ تَقْوًى عِنْدَ اللهِ كَانَ أَوْلَاكُمْ وَأَحَقَّكُمْ بِهَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ وَلَا أُصْدِقَتْ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ أَكْثَرَ مِنْ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُثَقِّلُ صَدَقَةَ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَكُونَ لَهَا عَدَاوَةٌ فِي نَفْسِهِ وَيَقُولُ قَدْ كَلِفْتُ إِلَيْكِ عَلَقَ الْقِرْبَةِ أَوْ عَرَقَ الْقِرْبَةِ وَكُنْتُ رَجُلًا عَرَبِيًّا مَوْلِدًا مَا أَدْرِي مَا عَلَقُ الْقِرْبَةِ أَوْ عَرَقُ الْقِرْبَةِ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং ২/১৮৮৭। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি (রাঃ) বলেছেন, মহিলাদের মাহরের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মান অথবা আল্লাহর কাছে তাক্ওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিক যোগ্য ও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের মাহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করেননি। কখনও অধিক মাহর স্বামীর উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর মনে শত্রুতা সৃষ্টি হয়, এমনকি সে বলতে থাকে, আমি তোমার জন্য পানির মশক বহনে বাধ্য হয়েছি অথবা তোমার জন্য ঘর্মাক্ত হয়ে পড়েছি। (রাবী বলেন), আমি একজন বেদুইন। অতএব আমি ‘‘আলাকাল কিরবা’’ বা ‘‘আলাকাল কিরবা’’-এ অর্থ কি তা জানি না।
তিরমিযী ১১১৪, নাসায়ী ৩৩৪৯, আবূ দাউদ ২১০৬, ২৮৭, দারেমী ২২০০, মিশকাত ৩২০৪, সহীহ আবী দাউদ ১৮৩৪, ইরওয়াহ ১৯২৭।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَمْ كَانَ صَدَاقُ نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ صَدَاقُهُ فِي أَزْوَاجِهِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا هَلْ تَدْرِي مَا النَّشُّ هُوَ نِصْفُ أُوقِيَّةٍ وَذَلِكَ خَمْسُ مِائَةِ دِرْهَمٍ
১/১৮৮৬। আবূ সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রীদের মাহর কতো ছিলো? তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রীদের মাহরের পরিমাণ ছিলো বার উকিয়া ও এক নাশ। তুমি কি জানো, নাশ কী? তাহলো অর্ধ উকিয়া। আর তাহলো পাঁচ শত দিরহামের সমান।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং১৮৮৬
মুসলিম ১৪২৬, নাসায়ী ৩৩৪৭, আবূ দাউদ ২১০৫, দারেমী ২১৯৯, বায়হাকী ৭/২৮৯, মুসতাদরাক ৪/৫৩৭, সহীহ আবী দাউদ, ১৮৩৩, সহিহাহ ১৮৩৩,
الْقِسْطُ فِي الْأَصْدِقَةِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشٍّ وَذَلِكَ خَمْسُ مِائَةِ دِرْهَمٍ
৩৩৫০. ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) … আবু সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে এব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাড়ে বার আওকিয়ায় বিবাহ করেছেন, আর এর পরিমাণ পাঁচশ’ দিরহাম।
সুনানে নাসাঈ শরীফ হাদিস নং 3550

وَعَنْ أَبِىْ سَلَمَةَ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ : كَمْ كَانَ صَدَاقُ النَّبِىِّ ﷺ قَالَت : كَانَ صِدَاقُه لِأَزْوَاجِهِ اثْنَتٰى عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشٌّ قَالَتْ : أَتَدْرِىْ مَا النَّشٌّ؟ قُلْتُ : لَا قَالَتْ : نِصْفُ أُوقِيَّةٍ فَتِلْكَ خَمْسُمِائَةِ دِرْهَمٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَنَشٌّ بِالرَّفْعِ
فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ وَفِىْ جَمِيْعِ الْأُصُوْلِ

মিশকাতুল মাসাবিহ হাদিস নং৩২০৩-[২] আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে জানতে চাইলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবাহের মোহর কি পরিমাণ ছিল? তিনি বললেন, তাঁর সহধর্মিণীগণের মোহরের পরিমাণ ছিল ১২ উকিয়্যাহ্ (১ উকিয়্যাহ্ ৪০ দিরহামের সমপরিমাণ) ও এক নাশ্। তিনি বললেন, তুমি জান ‘নাশ্’ কি? আমি বললাম, জানি না। উত্তরে বললেন, অর্ধ উকিয়্যাহ্, অর্থাৎ- এই পাঁচশত দিরহামই (৪০ × ১২ = ৪৮০ + ২০)।
[1] সহীহ : মুসলিম ১৪২৬, আবূ দাঊদ ২১০৫, আহমাদ ২৪৬২৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৩০৩।

নাশ্ نَشٌّ এর شِيْن অক্ষরে ضَمَّةْ শারহুস্ সুন্নাহ্ ও সকল মূল গ্রন্থে এরূপই আছে।
٣٢٠٣ – (وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا -) وَفِي نُسْخَةٍ سُئِلَتْ عَائِشَةُ (كَمْ كَانَ صَدَاقُ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – قَالَتْ: كَانَ صَدَاقُهُ لِأَزْوَاجِهِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ) بِسُكُونِ الشِّينِ وَيَكْسَرُ (أُوقِيَّةً) وَهِيَ أَرْبَعُونَ دِرْهَمًا (وَنَشٌّ) بِالرَّفْعِ لَا غَيْرَ أَيْ مَعَهَا نَشٌّ أَوْ يُزَادُ نَشٌّ قَالَ ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ النَّشٌّ النِّصْفُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَنَشُّ الرَّغِيفِ نَصِفُهُ (قَالَتْ: أَتَدْرِي مَا النَّشٌّ قُلْتُ: لَا، قَالَتْ: نِصْفُ أُوقِيَّةٍ) هِيَ أُفْعُولَةٌ وَالْهَمْزَةُ زَائِدَةٌ مِنَ الْوِقَايَةِ لِأَنَّهَا تَقِي صَاحِبَهَا الْحَاجَةَ فِي النِّهَايَةِ وَقَدْ يَجِيءُ فِي الْحَدِيثِ وَقِيَّةٌ وَلَيْسَتْ بِالْعَالِيَةِ (كَذَلِكَ خَمْسُمِائَةِ دِرْهَمٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ، وَنَشٌّ بِالرَّفْعِ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ وَفِي جَمِيعِ الْأُصُولِ) قَالَ الطِّيبِيُّ – رَحِمَهُ اللَّهُ -: فِي بَعْضِ نُسَخِ الْمَصَابِيحِ (وَنَشًّا) بِالنَّصْبِ عَطْفًا عَلَى ثِنْتَيْ عَشْرَةَ وَلَيْسَ بِرِوَايَةٍ قَالَ النَّوَوِيُّ – رَحِمَهُ اللَّهُ -: اسْتَدَلَّ أَصْحَابُنَا بِهَذَا الْحَدِيثِ عَلَى اسْتِحْبَابِ كَوْنِ الْمَهْرِ خَمْسَمِائَةِ دِرْهَمٍ فَإِنْ قِيلَ صَدَاقُ أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – كَانَ أَرْبَعَةَ آلَافِ دِرْهَمٍ أَوْ أَرْبَعَمِائَةِ دِينَارٍ فَالْجَوَابُ أَنَّ هَذَا الْقَدْرَ تَبَرَّعَ بِهِ النَّجَاشِيُّ مِنْ مَالِهِ إِكْرَامًا لِلنَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের মোহর ছিল ১২ উকিয়্যাহ্ এবং নাশ্ পরিমাণ। এক উকিয়্যাহ্ হলো চল্লিশ দিরহাম, নাশ্ হলো অর্ধ দিরহাম। ইবনুল আ‘রবী বলেন, নাশ্ হলো প্রত্যেক বস্তুর অর্ধেক। সবমিলে সাড়ে বারো উকিয়্যায় পাঁচশত দিরহাম হয়, এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের সর্বোচ্চ মোহরের পরিমাণ।
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের ভিত্তিতে আমাদের সাথীদের নিকট মুস্তাহাব হলো পাঁচশত দিরহাম মোহর নির্ধারণ করা। কেউ যদি প্রশ্ন তোলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ্ (রাঃ) এর মোহর চার হাজার দিরহাম অথবা চার লক্ষ দীনার ছিল? এর উত্তর হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানে উম্মু হাবীবাহ্ (রাঃ)-এর বিবাহের মোহর নাজাশী বাদশাহ রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় করেছিলেন অথবা অনুদান হিসেবে তাকে প্রদান করেছিলেন। সুতরাং তার বিবাহের মোহর পরিমাণ স্বতন্ত্র বিষয়। (শারহে মুসলিম ৯/১০ম খন্ড, হাঃ ১৪২৬; মিরকাতুল মাফাতীহ)

ইমাম আবু হা‌নিফা রাহ, এর ম‌তে, মোহ‌রের সর্ব‌নিম্ন দশ দিরহাম। প্রশ্ন হ‌লো, দশ দিরহাম সমমান বর্তমা‌নে বাংলা‌দে‌শে কত টাকা হ‌বে?–

জবাব: বিবাহের সর্বনিম্ন মহর দশ দিরহাম। অর্থাৎ দুই তোলা সাড়ে সাত মাশা বা ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপা। এক দিরহামের ওজন হল ৩.০৬১৮ গ্রাম। বর্তমানে প্রতি তোলা রূপার মূল্য ,900/- টাকা হলে ১০ দিরহামের মূল্য দাঁড়ায় ,9000/- টাকা। (শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৪/৩৯৮)

الله اعلم بالصواب

Leave a Reply

Close Menu