হাউযে কাউছার হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর আল্লাহর বিশেষ রহমত

হাউযে কাউছার হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর আল্লাহর বিশেষ রহমত

হাউযে কাউছার সম্পর্কে
আল্লাহ্ রাব্বুলআলামীন কোরআন মজিদে এরশাদ করেছেনঃ
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
অর্থঃ “হে প্রিয় হাবীব! আমি আপনাকে কাউছার দান করে দিয়েছি”। (ছুরা কাউছার)।
প্রশ্নঃ কাউছার এবং হাউযে কাউছার অর্থ কি? হাউযে কাউছার কয়টি? উহা কি পুলসিরাতের পূর্বে হবে- নাকি পরে? হাউযে কাউছার কত বড়? উহার পেয়ালা বা গ্লাসের সংখ্যা কত? হাউযে কাউছারের যিম্মায় কে কে থাকবেন?উত্তরঃ কাউছার অর্থঃ خیر کثیر বা নানাহবিদ কল্যাণ ও মঙ্গল এবং হাউযে কাউছার অর্থ- কল্যাণকর পানির হাউয। (তাফসীরে ইবনে আব্বাস)।

হাউযে কাউছার এমন বড় দিঘী- যার পানি হবে অফুরন্ত। পেয়ালা হবে আকাশের তারকারাজীর সমপরিমান। বিশুদ্ধমতে নবীজীর এবং অন্যান্য নবীগণের কাউছার হবে দু’টি করে হাউয, একটি হাশর ময়দানে, দ্বিতীয়টি জান্নাতে। পুল্সিরাত অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশের পর পূনরায় হাউযে কাউছার পান করানো হবে। হাউযে কাউছারের সীমানা হবে দীর্ঘতম। নবী করীম (ﷺ) বিভিন্ন সাহাবীদের নিকট তাঁদের পরিচিত স্থানের নামসমূহ উল্লেখ করে তার দৈর্ঘ বুঝিয়েছেন। হাউযে কাউছারের যিম্মাদার থাকবেন চার সাহাবী।

বিস্তারিত বিবরণঃ

(১) হাশরের ময়দানে নবীগণের ছোট হাউযের প্রমাণ-
عن بن عباس رضی اللّٰہ عنھما قال سئل رسول اللّٰہ ﷺ عن الوقوف بین یدی اللّٰہ تعالی ھل فیہ ماء؟ قال ای والذی نفسی بیدہ ان فیہ لماء وان اولیاء۔ اللّٰہ تعالی لیردون حیاض الانبیاء ۔
অর্থঃ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে জানতে চাওয়া হলো- হাশরের ময়দানে আল্লাহর দরবারে উপস্থিতির সময় কি পানি পাওয়া যাবে? নবী করীম (ﷺ) জওয়াব দিলেন- হাঁ, অবশ্যই হাশরে পানি পাওয়া যাবে। আল্লাহর মুমিন বন্ধুরা নবীগণের হাউযে উপস্থিত হবে এবং পানি পান করবে”। (কুরতুবী)।

ব্যাখ্যাঃ ইমাম কুরতুবী এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন- হাশরের ময়দানে প্রত্যেক নবীর জন্য এক একটি হাউয থাকবে এবং আল্লাহর মনোনীত বন্ধুরা সে হাউয থেকে পানি পান করে পিপাসা নিবারণ করবে। কেননা, পিপাসার সময়ই পানির প্রয়োজন হয়। অতএব বুঝা গেল- প্রথম হাউয হবে হাশরে এবং পুলসিরাতের পূর্বে। দ্বিতীয় হাউয হবে পুলসিরাতের পরে জান্নাতে। নবীজীর এই হাউযের কথাই কোরআনে বর্ণিত হয়েছে।

(২) জান্নাতের হাউযে কাউছারের দৈর্ঘ-প্রস্থ, পানির প্রকৃতি ও গ্লাসের সংখ্যা

এ প্রসঙ্গে আবু যার গিফারী, ছাওবান, আনাছ, আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর, আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর, আবু হোরায়রা, আবু সায়ীদ খুদরী প্রমূখ সাহাবায়ে কেরাম রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন থেকে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

(২-ক) হযরত আবু যার গিফারী বর্ণিত হাদীস-
عن ابی ذر رضی اللّٰہ عنہ قال قلت یا رسول اللّٰہ ما اٰنیۃ الحوض قال والذی نفس محمد بیدہ لاٰنیتہ اکثر من عدد النجوم والکواکب فی اللیلۃ المظلۃ المصحیۃ ۔ آنیۃ الجنۃ من شرب منھا لم یظما آخر ما علیہ یشخب فیہ میزابان من الجنۃ من شرب منہ لم یظمأ ۔ عرضہ مثل طولہ۔ ما بین عمان الی ایلۃ ماؤہ اشد بیاضا من الثلج واحلی العسل ۔ رواہ مسلم۔

অর্থঃ “হযরত আবু যর গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি আরয করলাম- ইয়া রাসুল্লাল্লাহ্ (ﷺ)! আপনার হাউযে কাউছারের গ্লাসের সংখ্যা কত? হুযুর (ﷺ) বললেন- আমি মোহাম্মদ (ﷺ) -এর প্রাণ যার হাতে- সেই সত্ত্¡ার শপথ করে বলছি- আমার হাউযে কাউছারের গ্লাসের সংখ্যা হবে- অন্ধকার রাত্রে দৃষ্ট গ্রহ ও নক্ষত্রের সংখ্যার চেয়েও বেশী। ঐ পেয়ালার পানি যারা পান করবে- তারা আর কোনদিন পিপাসিত হবে না। ঐ প্রবাহিত নহরের শেষ মাথায় দুটি জান্নাতী নল দিয়ে পানি গড়িয়ে আসবে। যারা একবার পান করবে- চিরদিন আর পিপাসা লাগবে না। উহা দৈর্ঘপ্রস্থে সমান। আম্মান হতে আয়লা পর্য্যন্ত তার দৈর্ঘ্য প্রস্থ। এর পানি বরফের চেয়ে বেশী ঠাণ্ডা ও সাদা এবং মধুর চেয়েও বেশী মিষ্ট”। (মুসলিম শরীফ)। (হযরত আবু যর এই দুই জায়গা চিনেন বলে তাঁকে আম্মান ও আয়লার কথা বলেছেন)।

বিঃ দ্রঃ হাউযে কাউছারের দৈর্ঘ-প্রস্থ সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) বিভিন্নজনের কাছে বিভিন্ন জায়গার নাম উল্লেখ করেছেন। যেমন- হযরত সাওবান (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলেছেন- “মদিনা হতে আম্মান” পর্য্যন্ত দৈর্ঘ্য-প্রস্থ। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলেছেন “আমার হাউয একমাসের রাস্তার মত দৈর্ঘ্য”। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলেছেন- “হাউযের দৈর্ঘ্য হবে সিরিয়ার জারবা হতে আয্রোহ্” শহরদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানের সমান। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলেছেন- “আয়লা ও এডেনের মধ্যবর্তী স্থানের সমান”। হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বলেছেন- “কা’বা ও বাইতুল মোকাদ্দাস -এর মধ্যবর্তী স্থানের সমান”। সব বর্ণনার মূল কথা হলো- হাউযে কাউছার খুব বড় আকারের হবে- যার যার পরিচিত স্থানের দূরত্বের সমান।

এই ৬টি বর্ণনায় বিভিন্ন স্থানের সাথে তুলনা দিয়েছেন এজন্য যে, যে জায়গার দূরত্ব সম্পর্কে যে সাহাবী বেশী অবহিত- তাঁর কাছে সে স্থানের উদাহরন দিয়েছেন। এতে হাউযে কাউছারের দৈর্ঘ্য-প্রস্থের একটি পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যাচ্ছে। নবী করীম (ﷺ) তো মি’রাজে গিয়ে নিজ চোখে কাউছার দেখে এসেছেন। সুতরাং, হুযুরের নিকট কোন অস্পষ্টতা ছিল না।

যারা হাদীসবিদ্যায় পারদর্শী নয়- এমন কিছু লোকই বলেছে যে, নবী করীম (ﷺ) -এর বর্ণনার মধ্যে সঠিক বর্ণনা প্রতিফলিত হয়নি। ইমাম মাহ্দীর আগমন সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) বিভিন্ন সাহাবীদের কাছে তাঁদের বিবেক অনুযায়ী বর্ণনা দিয়েছেন। মৌদূদী সাহেব তার “তাজদীদ” গ্রন্থে বলেছেন- “দাজ্জালের আগমন সম্পর্কে নবীজী নিজেই সন্দেহের মধ্যে ছিলেন”। (নাউযুবিল্লাহ) দেখুন- মৌদূদী জামায়াতের স্বরূপ ২১৩ পৃষ্ঠা)।

(৩) চার খলিফা থাকবেন হাউযে কাউছারের পানি পান করানোর দায়িত্বে

এ প্রসঙ্গে ইমাম কুরতুবী (রহঃ) “গায়লানিয়াত” গ্রন্থের বরাতে হযরত আনাছ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত একটি মারফু’ হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেন-
وقد رفع صاحب الغیلانیات من حدیث حمید عنا نس رضی اللّٰہ عنہ قال قال رسول اللّٰہﷺ ان علی حوضی اربعۃ ارکان۔ فاول رکن منھا فی ید ابی بکر ۔ الرکن الثانی فی ید عمر۔ والرکن الثالث فی ید عثمان۔ والرکن الرابع فی ید علی رضی اللّٰہ عنھم اجمعین۔ فمن احب ابا بکر وابغض عمر لم یسقہ ابو بکر ومن احب عمروا لغض ابا بکر لم یسقہ عمر ۔ ومن احب عثمان والغض علیا لم یسقہ عثمان ۔ ومن احب علیا وابغض عثمان لم یسقہ علی۔ (الغیلانیات والتذکرۃ صفح ۳۳۲)

অর্থঃ “হোমায়েদ -এর সনদে হযরত আনাছ (রাঃ) থেকে গায়লানিয়াত -এর গ্রন্থকার একটি মারফু’ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হযরত আনাছ (রাঃ) বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন-

“আমার হাউযে কাউছারের চারটি কর্নার হবে। প্রথম কোনা থাকবে হযরত আবু বকরের দায়িত্বে, দ্বিতীয় কোণা থাকবে হযরত ওমরের দায়িত্বে, তৃতীয় কর্নার থাকবে হযরত ওসমানের দায়িত্বে, চতুর্থ কর্নার থাকবে হযরত আলীর দায়িত্বে। যে ব্যক্তি আবু বকরের প্রতি ভালবাসা পোষন করবে- কিন্তু ওমরের প্রতি শত্র“তা ভাব রাখবে, তাকে হযরত আবু বকর (রাঃ) পানি পান করাবেন না। যে ব্যক্তি হযরত ওমরের প্রতি মহব্বত পোষন করে- কিন্তু হযরত আবু বকরের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষন করবে- তাকে হযরত ওমর (রাঃ) পানি পান করাবেন না। যে ব্যক্তি হযরত ওসমানের প্রতি মহব্বত পোষন করে- কিন্তু হযরত আলীর প্রতি বিদ্বেষভাব রাখে, তাকে হযরত ওসমান (রাঃ) পানি পান করাবেন না। আর যে ব্যক্তি হযরত আলীর প্রতি মহব্বত পোষন করে- কিন্তু হযরত ওসমানের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, তাকেও হযরত আলী (রাঃ) পানি পান করাবেন না”। (তাযকিরাহ্ ৩৩২ পৃষ্ঠা)।

ব্যাখ্যাঃ বুঝা গেল- চার খলিফা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যেকোন একজনের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করলে অন্যরা তাকে হাউযে কাউছারের পানি পান করাবেন না। সুতরাং চার আসহাবের সকলের প্রতি মহব্বত না রাখলে পরকালে তাঁদের কোনই সহানুভূতি পাওয়া যাবেনা। ইহা নবীজীর বাণী। এক্ষেত্রে শিয়া-সুন্নীর প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন হলো- নবীজীর সুপারিশ ও হাউযে কাউছার নিয়ে। আল্লাহ্ আমাদেরকে খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রতি সুবিচার ও যথাযথ মহব্বত করার তৌফিক দিন। (শিয়াদের জন্য এ হাদীসখানা চরম আঘাত স্বরূপ। কেননা তারা প্রথম তিন সাহাবীকে বাতিল বলে )।

(৪) মক্কাত্যাগী দরিদ্র মুহাজিরগণ সর্বপ্রথম হাউযে কাউছারের পানি পান করার সুযোগ পাবে

এ প্রসঙ্গে হযরত সাওবান (রাঃ) থেকে একখানা হাদীস বর্ণিত হয়েছে-
خرج ابن ماجۃ عن ثوبان مولی رسول اللّٰہ ﷺ قال: ان حوضی ما بین عدن الی أیلۃ اشد بیاضا من اللبن واحلی من العسل ۔ اکاویبہ کعدد نجوم السماء ۔ من شرب منہ لم یظمأ بعدھا ابدا۔ واول الناس من یرد علی الحوض فقراء المھاجرین الدنس ثیاباالشعث رؤوسا الذین لا ینکحون لمتنعمات ولا تفتح لھم ابواب السدد۔ قال: فبکی عمر حتی ابتلت لحیتہ فقال: لکنی نکحت المتنعمات وفتحت لی ابواب السدد لاجرم انی لا اغسل ثوبی الذی یلی جسدی حتی ینسخ ، ولا ادھن رأسی حتی تثعث

অর্থঃ “রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত গোলাম হযরত সাওবান (রাঃ) থেকে ইবনে মাজাহ্ বর্ণনা করেছেন। হযরত সাওবান (রাঃ) বলেন- রাসুলে খোদা (ﷺ) এরশাদ করেছেন- “আমার হাউযে কাউছারের পরিধি হবে এডেন থেকে আয়লা পর্য্যন্ত (ইয়েমেন)। উহার পানি দুধের চেয়ে সাদা, মধূর চেয়ে মিষ্টি। তার গ্লাসসমূহ হবে আকাশের তারকারাজীর সমান। যারাই উক্ত পানি পান করবে- কোনদিন আর পিপাসিত হবে না। আর আমার উক্ত হাউযে সর্বপ্রথম প্রবেশাধিকার পাবে গরীব মুহাজিরীন (যারা বাড়ীঘর আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেছেন একমাত্র আল্লাহ্ ও রাসুলের সন্তুষ্টির জন্য। ) তাঁদের বস্ত্র ছিল ধূলামলিন ও পুরাতন এবং মাথার চুল ছিল তৈলবিহীন উস্কো খুস্কো। তাঁরা (মদিনায় গিয়ে) কোন ধনবতী মহিলাকে বিবাহ করতে পারেনি, আর কোন ধনাঢ্য ব্যক্তির দরজাও তাদের জন্য খোলা ছিল না” (এত কষ্ট করেছেন তাঁরা)।

হযরত সাওবান (রাঃ) বলেন- একথা শুনে হযরত ওমর (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। তাঁর চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজে গেলো। তিনি বললেন- আমি ধনবতী মহিলাকে বিবাহ করেছি এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিদের দরজাও আমার জন্য খোলা। তাহলে অবশ্যই আমি আমার শরীরের কাপড় চোপড় আর ধৌত করবো না- যে পর্য্যন্ত না তা ছিড়ে যায়। আর মাথায় তৈলও মালিশ করবো না- যাতে উস্কো খুস্কো হয়ে যায়”। (ইবনে মাজাহ্)।

ব্যাখ্যাঃ গরীব মুহাজিরদের ফযিলত শুনে হযরত ওমর ঐ ফযিলত পাওয়ার জন্যই এই আরযু প্রকাশ করেছিলেন। পূর্ব হাদীসে তো প্রমানিত হয়েছে যে, তিনি হাউযে কাউছারের দায়িত্বে ও কর্তৃত্বে নিয়োজিত থাকবেন। কিন্তু তিনি ঐ দায়িত্বের চেয়ে গরীবদের সম্মানের অধিকারী হতেও ইচ্ছা পোষন করেছিলেন। এটা হলো সাহাবায়ে কেরামের বিনয় এবং রাসুলেপাকের ঘোষণার প্রতি আকুলতা ও আগ্রহ প্রকাশ।

(৫) হাশর ময়দানের হাউযে কাউছার থেকে মোরতাদ ও আহ্লে বিদ্আতকে (৭২ ফের্কা) ফিরিয়ে দেয়া হবে

এ প্রসঙ্গে হযরত আনাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস খুবই তাৎপর্যপূর্ন।

বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
عن انس بن مالک عن النبی ﷺ قال لیردن علی ناس من اصحابہ الحوض حتی اذا عرفتھم افتلجوا دونی فاقول اصحابی فیقال لا تدری ما احدثوا بعدک۔
অর্থঃ হযরত আনাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন- “হাশরের ময়দানে আমার কাছে হাউযে কাউছারের পানি পান করার জন্য আমার তথাকথিত সঙ্গীদের কিছু লোক উপস্থিত হবে। আমি যখন তাদেরকে দেখে চিনে ফেলবো, তখন তাদেরকে আমার থেকে পৃথক করে ফেলা হবে। আমি বলবো -এরা তো একদিন আমার সাথী ছিল? আমাকে বলা হবে- আপনি জানেন না- তারা আপনার পরে কি কি নতুন জিনিস চালু করেছিল”? (বুখারী শরীফ)। (এই হাদীসের ব্যাখ্যা পরবর্তী হাদীসে আস্ছে। ওরা ছিলো ধর্মত্যাগী ও ভ্রান্ত খারেজী দল, জলিল)।

(৬) আহ্লে বিদআতের পরিচয়ঃ মুরতাদ
عن ابی ھریرۃ رضی اللّٰہ عنہ انہ کان یتحدث ان رسول اللّٰہ ﷺ قال : یردد علی الحوض رھط۔ من اصحابی فیخلون عن الحوض فاقول ۔ یا رب اصحابی فیقول انک لا علم لک بما احدثوا بعدک۔ ۔ الھم ارتدوا علی ادبارھم
অর্থঃ হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি সব সময় বলতেন যে- রাসুলকরিম (ﷺ)- এরশাদ করেছেন- “হাশরের ময়দানে একদল লোক আমার হাউযে কাউছারের কাছে এসে উপস্থিত হবে- কিন্তু তাদেরকে হাউযে কাউছার থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। আমি এ অবস্থা দেখে বলবো- হে আল্লাহ্ -এরা তো একসময় আমার সঙ্গী ছিল। আল্লাহ্ পাক বলবেন- আপনার কি এ বিষয়ে জানা নেই যে, এরা আপনার পরে কি কি নতুন জিনিস উদ্ভাবন করেছিল? এরা ধর্মত্যাগ করে উল্টা পায়ে ফিরে গিয়েছিল”।

ব্যাখ্যাঃ হযরত আবু হোরায়রার হাদীসখানা ৫ নম্বরে বর্ণিত হযরত আনাছের বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যা স্বরূপ। হযরত আনাছের হাদীসে শুধু নূতন জিনিস (বিদ্আত) প্রচলনের কথা উল্লেখ আছে। আর হযরত আবু হোরায়রার অত্র হাদীস তার ব্যাখ্যা দিচ্ছে এভাবে যে, এরা ছিল মোসায়লামাতুল কাজ্জাব ও তার অনুসারী বনী তামিমের একদল ধর্মত্যাগী। নবীজীর ইনতিকালের সাথে সাথে মোসায়লামা তার নবুয়ত দাবী নিয়ে ধর্মত্যাগ করে বিদ্রোহী হয়ে উঠে। হযরত আবু বকর (রাঃ) জঙ্গে ইয়ামামার যুদ্ধে শক্তহাতে তাদেরকে হত্যা করেন এবং বাকীদের পূনঃ ইসলামে দীক্ষিত করেন। আর খারেজীরা হযরত আলী (রাঃ)-এর যুগে সৃষ্ট হয়ে বিদআতী আক্বিদা প্রচলন করে সাহাবীগণকে কাফির বলে ফতোয়া দিয়েছিল, তারা হযরত আলী (রাঃ) কে কাফের ফতোয়া দিয়ে শহীদ করেছে।

এরা যেহেতু প্রথম দিকে রাসুলের সাথে ছিল- সে কারণে তিনি তাদেরকে “আসহাবী” বা “আমার কথিত সঙ্গী” বলে উল্লেখ করবেন। “এটা তাদের জন্য নবীজীর সুপারিশ নয়- বরং অপদস্ত করার কৌশল মাত্র”। সুতরাং বিদ্আতী বল্তে খারেজী ও মোরতাদদেরকেই বুঝানো হয়েছে।

বর্তমান ওহাবীরা আনাছ বর্ণিত হাদীসের অপব্যাখ্যা করে ঐ হাদীসকে সুন্নীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে। এটা তাদের মনগড়া ব্যাখ্যা। সুন্নীগণ বিদ্আতী নয়-বরং ওহাবী-খারেজীরাই প্রকৃত বিদ্আতী। তারা খারেজী বিদ্আতী দল ও আক্বিদা বানিয়েছে। আমলী বিদ্আতীকে বলা হয় ফাছিক। সুন্নীরা বিদ্আতী নয়।

(৭) নবুয়ত দাবীদার, যাকাত অস্বীকারকারী, খারেজী, শিয়াসহ অন্যান্য বাতিল সম্প্রদায়ই মূলতঃ বিদ্আতী ফের্কা- সুন্নীরা নয়ঃ

এ প্রসঙ্গে বুখারী বাবুল হাউয, মুসলিম কিতাবুল জান্নাত, নাছায়ী কিতাবুল জানায়েয, তিরমিযি কিতাবুত তাফসীর, মুসনাদে আহমদ, ইবনে আবি শায়বা প্রভৃতি গ্রন্থে নিম্নবর্ণিত হাদীসখানা সন্নিবেশিত হয়েছে। অত্র হাদীসে احداث فی الدین বা بدعت فی الدین বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে- তা পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে।
قال رسل اللّٰہ ﷺ ترد علی امتی الحوض وانا اذود الناس عنہ کما یذود الرجل ابل الرجل عن ابلہ ۔ قالوا نبی اللّٰہ اتعرفنا ؟ قال نعم لکم سیما لیست لا حد غیرکم ۔ تردون علی عزا مجحلین من آثار الوضوء ۔ ولیصدق عنی طائفۃ منکم ۔ فلا یصلون فاقول ۔ یار ب ھؤلاء من اصحابی ۔ فیجیبنی ملک فیقول وھل تدری ما احدثوا بعدک۔

অর্থঃ নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেন- “হাশরের ময়দানে আমার হাউযে কাউছারে আমার তথাকথিত কিছু উম্মত উপস্থিত হবে। আমি কিছু লোককে (তাদেরকে) হাউয হতে এভাবে হটিয়ে দেবো- যেমন একজন উটের মালিক নিজ উট হতে অন্যদের উট হটিয়ে দেয়। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম একথা শুনে আরয করলেন- ইয়া রাসুল্লাল্লাহঃ তাহলে আপনি আমাদেরকে কিভাবে চিন্বেন? নবী করিম (ﷺ) বললেন- তোমাদেরকে চিন্বো তোমাদের একটি খাস নিশানী দেখে। ঐ প্রতীক তোমাদের ছাড়া অন্য কারো থাকবে না। তাহলো- তোমাদের হাতে, পায়ে, মুখে ও কপালে অজুর কারণে উজ্জ্বল চিহ্ন হবে।

আর অন্য এক দলকে আমার নিকট আসতে বাধা দেয়া হবে। তারা আমার কাছে আসতে পারবে না। আমি বলবো- এরা তো একদিন আমার কথিত সঙ্গী ছিল! তখন এক ফিরিস্তা জওয়াব দিয়ে বলবে- “আপনি কি জানেন- (নিশ্চয়ই জানেন)- এরা আপনার পরে ধর্মের মধ্যে কি কি নতুন জিনিস (আক্বিদা) ঢুকিয়েছে”?

ব্যাখ্যাঃ অত্র হাদীসে من اصحابی দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে- ঐ সমস্ত লোক ছিল পূর্বে মুসলমান ও হুযুরের সঙ্গী। পরে হয়ে গেছে মুরতাদ, ধর্মদ্রোহী, খারেজী, শিয়া এবং মুন্কিরীনে যাকাত। এদের ব্যাপারেই এই হাদীসটি বর্ণিত। অত্র হাদীসে ھل تدری শব্দটিকে استفھام تقریری অর্থাৎঃ “হ্যাঁ বোধক প্রশ্ন” বলা হয়। এতে জিজ্ঞাসার সূর থাকলেও বিষয় বস্তুকে সাব্যস্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এ ধরণের বাক্যে কথার জোর হয় বেশী। যেমন – বলা হয় “আপনি কি দেখেননি- আপনার রব হাতীওয়ালাদের সাথে কি ঘটনা ঘটিয়েছিলেন? এর উদ্দেশ্য হলো- ভালভাবে জানা ও দেখার স্বীকৃতি। নবী করীম (ﷺ) মাতৃগর্ভে থেকেই আবরাহার ধ্বংসের চিত্র দেখেছিলেন। সূরা ফীল -এর মধ্যে এদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ্পাক বলেছেন- أَلَمْ تَریَ “আপনি কি দেখেন নি? অর্থাৎ- অবশ্যই দেখেছেন। বাহ্যিকভাবে প্রশ্ন হলেও প্রকৃতপক্ষে স্বীকৃতি বুঝা যায়। (দেখুন আল্লামা তাহেরুল কাদেরীর” কিতাবুল বিদ্আত পৃষ্ঠা ৫০)। তদুপরি- হাদীসের শুরুতে বলা হয়েছে -হুযুর (ﷺ) নিজেই তাদেরকে হটিয়ে দিবেন। তারা বিতাড়িত দল।

উপরে বর্ণিত ৫, ৬ ও ৭ নম্বর হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা কুরতুবীর অভিমতঃ

বর্ণিত হাদীসসমূহে “ধর্মে নতুন জিনিস সংযোজক বা বিদ্আত আবিষ্কারক” বা “মুরতাদ” দ্বারা “আল্লাহর কোরআনী নীতি বিবর্জিত মতবাদ” দ্বীনের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত কারীদেরকেই বুঝানো হয়েছে। যেমন, মোসায়লামা, যাকাত অস্বীকারকারী, খারেজী ও শিয়া সম্প্রদায়। তারা প্রথমে নবীজীর সঙ্গীই ছিল। পরে নিত্যনতুন বাতিল মতবাদ সৃষ্টি করে ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এজন্য হযরত আবু বকর (রাঃ) এবং হযরত আলী (রাঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাদেরকে হত্যা করেছিলেন। হাদীসে এদের প্রতি ইঙ্গিত করেই নবীজী এরশাদ করেছেন- “এদেরকে হাশরের ময়দানে হাউযে কাউছারের কাছে “ঘেঁষতে দেয়া হবে না”। এরা হবে বিতাড়িত। উল্লেখ্য- দ্বীনের প্রয়োজনে যেসব ভাল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে- তা অত্র হাদীসের অন্তর্ভূক্ত নয়।

ইমাম কুরতুবী বলেন- আরো পরবর্তীযুগে আগত রাফেযী, মোতাযিলা ও অন্যান্য ৭২ বাতিল ফের্কার লোকেরা হবে হাউযে কাউছার থেকে বিতাড়িত লোক। অনুরূপ- যারা অন্যায় ও জুলুম করেছে, কবিরা গুনাহ্য় লিপ্ত হয়েছে, লুন্ঠন, হত্যা ইত্যাদি গুনাহ্ করেছে- তারাও হাউযে কাউছারের কাছে ঘেঁষতে পারবে না। তারা সবাই প্রথমে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

তন্মধ্যে যারা আমলের ক্ষেত্রে সুন্নাতের পরিপন্থী আমল চালু করেছিল- তারা শাস্তিভোগ করার পর মুক্তি পাবে- কিন্তু যারা আক্বায়েদ পরিবর্তন করেছে- তাদের বেলায় আল্লাহর ইচ্ছা যখন হবে- তখন তারা মাফ পেতে পারে- নবীজীর সুপারিশক্রমে নয়। (আত তাযকিরাহ্ ৩৩৪ পৃষ্ঠা)। তাদের জন্য সুপারিশ করা হবেনা।

নোটঃ ওহাবীরা এক ক্ষেত্রের হাদীস অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করার কাজে ওস্তাদ। তারাই মূল বিদআতী সম্প্রদায়- কেননা, তাদের আক্বিদা বাতিল। তারা নবীজীর ব্যাপারে অবমাননাকর ৭০টি আক্বিদা আবিষ্কার করেছে। তারাই মূল বিদ্আতী ও পৃথক সম্প্রদায়। সুন্নীরা বিদ্আতী হতেই পারেনা- কেননা তাদের নাম আহ্লে সুন্নাত- আহ্লে বিদ্আত নয়।

(৮) হযরত সালেহ (আঃ) ব্যতিত প্রত্যেক নবীরই হাউয থাকবে
خرج الترمذی عن سمرۃ قال قال رسول اللّٰہ ﷺ ان لکن نبی حوضا وانھم یتباھون ایھم اکثر واردھا۔ وانی ارجوا ان اکون اکثرھم واردہ ھذا حدیث حسن غریب ۔ وقال البکری المعروف بابن الواسطی لکل نبی حوض الاصالحا علیہ السلام فان حوضہ ضرع نقتہ
۴۰ نمبر

অর্থঃ হযরত ছামুরা ইবনে জুন্দুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “প্রত্যেক নবীর উম্মতের জন্যই হাউয থাকবে এবং নবীগণ পরস্পর এ বিষয় নিয়ে গৌরব করবেন- কার বেশী ওম্মত তাঁর হাউয হতে পানি পান করবে। আর- আমি আশা করছি- আমার উম্মতই হবে সবচেয়ে বেশী। ” উক্ত হাদীসখানা হাসান বা মধ্যম পর্য্যায়ের, তবে তার রাবী কম- তাই গরীব। (তিরিমিযি)।

মোহাদ্দেস বাকারী ইবনে ওয়াসেতী (রহঃ) এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন- “প্রত্যেক নবীরই হাউয থাকবে- কিন্তু সালেহ্ (আঃ) -এর হাউযের পরিবর্তে তাঁর উটের স্তন হবে তাঁর উম্মতের হাউয”।

ব্যাখ্যাঃ হাশরের ময়দানে ও জান্নাতে নবীগণ নিজ নিজ উম্মতের সংখ্যা নিয়ে গৌরব করবেন এবং হাউযের ব্যাপারেও গৌরব করবেন। হুযুর (ﷺ) বিনয়ের সাথে বললেন- আমার আশা যে, আমার উম্মতই হবে সবার চেয়ে অধিক। ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, হাউযে কাউছারের পেয়ালার সংখ্যাই হবে আকাশের সমস্ত গ্রহ-নক্ষত্রের চেয়েও বেশী। তাহলে উম্মতের সংখ্যা কত হতে পারে- তা সহজেই অনুমেয়। হাদীসে এসেছে- “হাশরবাসীর কাতার হবে ১২০টি। তার মধ্যে ৮০টি কাতারই নবীজীর উম্মতের। বাকী ৪০ কাতার হবে অন্যান্য নবীগণের উম্মতের।

জান্নাতে অন্যান্য নবীদেরকে এক একটি করে হাউয দেয়া হবে। কিন্তু সালেহ্ (আঃ) কে দেয়া হবে তাঁর মোজিযার উটনীটি। ঐ উটনীটি জান্নাতে যাবে এবং তার দুধপান করবে সালেহ (আঃ) -এর উম্মতগণ। তাহলে বুঝা যাচ্ছে- অন্যান্য নবীগণের হাউয হবে যত বড়- উক্ত উটনীর স্তনও হবে তত বড় এবং দুধও হবে সে পরিমানেই”।

বিঃ দ্রঃ জান্নাতে ৪টি নহর দিয়ে ৪ প্রকার নেয়ামত এসে নবীজীর হাউযে কাউছারে পড়বে বলে ২৬ পারা সূরা “মুহাম্মদ” (ﷺ) -এ বর্ণিত হয়েছে। একটি নহর হবে দুধের, আরেকটি হবে মধুর, আরেকটি হবে সুস্বাদু পবিত্র শরাবের নহর, আরেকটি হবে নির্মল পানির।

এই ৪টি নহরের উৎসমূল হবে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”-এর মধ্যে ৪টি শব্দের শেষের চার হরফ থেকে অর্থাৎ- বিছমি শব্দের শেষের (মীম), আল্লাহ্ শব্দের শেষের (হা), রাহমান শব্দের শেষের (নূন) এবং রাহীম শব্দের শেষের (মীম)। এই ৪টি হরফ থেকে ৪টি নহর বের হয়ে হাউযে কাউছারে পতিত হবে। মি’রাজ রজনীতে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবীজীকে জান্নাতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হাউযে কাউছারের উৎসমূল, ৪ প্রকার পানীয় পান করার পাত্রসমূহ, হাউযে কাউছারের মূল্যবান পাথরসমূহ ও গ্লাসসমূহ- সবকিছু দেখিয়েছিলেন।

নবীজী (ﷺ) বলেছেন- “যারা প্রত্যেক ভালকাজে নিয়ত করে “বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” পড়বে- তাদেরকে ঐ ৪ নহরের পানি, দুধ, মধু ও পবিত্র শরাব পান করানো হবে। ”

এছাড়াও অন্যান্য নহরের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন, একটি নহরের নাম হবে “রজব”। যারা রজবের চাঁদের ২৭ তারিখ নফল রোযা রাখবে, তাঁদেরকে ঐ রজব নহরের পানি পান করানো হবে- যার স্বাদ হবে মধুর চেয়ে বেশী মিষ্ট- রং হবে দুধের চেয়ে বেশী সাদা এবং শীতল হবে বরফের চেয়েও বেশী”। (গুনিয়াতুত ত্বালেবীন, তামবিহুল গাফিলীন, দুররাতুন নাসিহীন- প্রভৃতি ফাযায়েল গ্রন্থ)।

প্রার্থনাঃ হে আল্লাহ্! আমাদেরকে উক্ত নহরের উপযুক্ত বানাও, নবীজীর সুন্নাত ও নফলের উপর বেশী বেশী আমল করার তৌফিক দাও এবং প্রত্যেক সুন্নাতকে মনেপ্রাণে গ্রহন করে তাঁকে প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসার তৌফিক দাও। আর- যারা নবীজীকে বড় ভাই বা সম পর্য্যায়ের মনে করে- সেসব বেদ্বীন আলেমের পুস্তকাদিকে ঘৃণা করার শক্তি দাও। নবীজীর শানে যারাই সামান্য বেয়দবীমূলক উক্তি করেছে- তাদেরকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করার তৌফিক দাও। কেননা, নবীজীর দুশমনকে ঘৃণা করাও ঈমানের অঙ্গ। (কোরআন- সুরা মুজাদালাহ্)।

সতর্কবাণীঃ আল্লাহ্পাক কোরআন মজিদে নবীজীর প্রতি মহব্বতকে যেমন ফরয করেছেন- তদ্রুপ নবী বিদ্বেষীদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করাও ফরয করে দিয়েছেন। বিশেষ করে- নবীর দুশমনদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বনকারীকে আল্লাহ্ ৪টি পুরস্কারে ভূষিত করবেন (১) তাদের অন্তরে ঈমানের সীলমোহর মেরে দিবেন স্বয়ং আল্লাহ্। (২) জিবরাঈল সদাসর্বদা তাদের সাহায্য করবেন (৩) জান্নাতে চিরদিন তারা স্থায়ী হবে। (৪) তাঁরা হবেন “রাদিয়াল্লাহু আনহু” এবং “হিয্বুল্লাহ”। (সুরা মুজাদালাহ্ শেষ আয়াত) তারা সাহাবী হোন- অথবা সাধারণ মোমেন হোন-সবার জন্য একই হুকুম। তাঁরা “রাদিয়াল্লাহু আনহু” এবং প্রকৃত হিযবুল্লাহ্”। তাই এসব আশেকদের নামের পরে সমস্ত মোহাদ্দেসীন ও মোফাসসিরীনগণ “রাদিয়াল্লাহু আনহু” লিখে গেছেন। যেমন- চার মাযহাবের চার ইমাম, চার তরিকার চার ইমাম ও অন্যান্য হাক্কানী আলেম উলামা ও পীর মাখায়েখগণের নামের পূর্বে রাদিয়াল্লাহু আনহু বলা অত্র আয়াত দ্বারাই প্রমাণিত।

কারা কারা রাদিয়াল্লাহু আনহুঃ (কার কার নামে রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যবহার করা যাবে)

আল্লাহ্পাক চারশ্রেণীর লোককে রাদিয়াল্লাহু আনহু টাইটেল দিয়েছেন।

(১) সাহাবায়ে কেরামকে-সূরা হুযুরাতে (২) আল্লাহ্ভীরু আউলিয়ায়ে কেরামকে- সূরা বাইয়্যেনাহ্ শেষ আয়াতে (৩) মোমেনে কামিলকে- সূরা বাইয়েনাতে (৪) নবীর দুশমনদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বনকারী এবং তাদের হত্যাকারীদেরকে (সূরা মুজাদালা ২৮ পারা- দেখুন বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থ)।

সুতরাং- সাহাবায়ে কেরাম হলেন ১নং রাদিয়াল্লাহু আনহু, অলী আউলিয়াগণ হচ্ছেন ২ নং রাদিয়াল্লাহু আনহু, মোমেনে কামিলগণ হচ্ছেন ৩নং রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং নবী প্রেমিকগন হলেন ৪নং ও বিশেষ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

এই তাহ্কীক অনেকেই জানেন না বলে সাহাবী ছাড়া অন্য কাউকে রাদিয়াল্লাহু আনহু বললে তারা ক্ষেপে যান। এটা এক প্রকার গোঁড়ামী ও জিহালত। দেখুন- বিবি হাওয়া ও বিবি মরিয়ম নবী না হয়েও তাঁদের নামের সাথে “আলাইহাস সালাম” ব্যবহার করা হয়। ইমাম মাহ্দী নবী না হয়েও তাঁর নামের সাথে “মাহ্দী আলাইহিস সালাম” বলা হয়। কেউ কোনদিন তাঁদেরকে রহমতুল্লাহ বলেননি- বা কোন কিতাবেও লেখা নেই। বিষয়টি আলেম উলামাগণ ভাল করে পড়ে নিবেন। সংগ্রহ মাওলানা মোহাম্মদ আলী আল কাদরী

Leave a Reply

Close Menu